Published : 27 Jul 2026, 08:17 AM
কুমিল্লার তিতাসের চরভাটেরা এবং মেঘনার আলীপুর গ্রামবাসীর মধ্যে জমি বা চর দখলের তীব্র বিরোধের জেরে রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এই সংঘাতের ফলস্বরূপ নদী থেকে টেটাবিদ্ধ এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, যা এক মর্মান্তিক দৃশ্যের অবতারণা করে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে চল্লিশজন মানুষ আহত হন এবং তাদের মধ্যে অধিকাংশই টেটাবিদ্ধ অবস্থায় ছিল। নিহত কোহিনুর বেগম (৩৫) ছিলেন মেঘনার আলীপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী। স্থানীয় ও উভয় থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে ব্যক্তিগত কাজের অজুহাতে তিতাসের চরভাটেরার প্রবাসী মো. শাহবাজ এবং মজনু মিয়া যখন মেঘনা উপজেলায় গেলে, তখন চর বিনতপুর আলী আকবর ও তার সঙ্গীরা তাদের বাধা দেয় এবং আটকে রাখে। এই বিষয়টি জানতে পেরে তিতাসের চরভাটেরার লোকজন সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এরপরই বিকেলে মেঘনার আলীপুর ও চর বিনতপুর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে তিতাসের চরভাটেরাবাসীদের মধ্যে তীব্র টেটাযুদ্ধ শুরু হয়।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত চল্লিশজন আহত হন, যাদের মধ্যে তিতাসের ১৫ জন এবং মেঘনার ২৫ জন। আহতদের তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং আলীপুর ও বিনতপুরের আহতদের মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে বিনতপুর গ্রামের স্বপন (২৭), সাগর (৪০) এবং চরভাটেরা গ্রামের জসিম উদ্দিনকে (৩৫) জরুরি চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের পর আলীপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে টেটাবিদ্ধ এক নারীর ভাসমান দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। মৃতদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা নিশ্চিত হন যে এটি আলীপুর গ্রামের ট্রলার চালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী কোহিনুর বেগম। তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক জানান, ঘটনার পরপরই তিতাস থানা থেকে ২৫ জন পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। অন্যদিকে, মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম নিশ্চিত করেন যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কোনো অঘটন যাতে না ঘটে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই নদীপথের এক পাড়ে তিতাস উপজেলা এবং অন্য পাড়ে মেঘনা উপজেলা বিস্তৃত। তিতাসের মানচিত্র অনুযায়ী, মেঘনার নদীর ওপারে তিতাসের কিছু অংশ এবং মেঘনার উপজেলার কিছু অংশ রয়েছে, যা মূলত চর হিসেবে পরিচিত। এই চর নিয়ে বছরের পর বছর ধরে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এর আগে গত ১৫ জুনও উভয় গ্রামের গ্রামবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে প্রায় ২০ জন আহত হন এবং বহু বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছিল।।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করল ইরান; হরমুজ প্রণালীতে নতুন করিডোর প্রত্যাখ্যান