Published : 25 Jul 2026, 10:16 AM
ক্রেমলিন ঘোষণা করেছে যে, যুদ্ধে নিহত রুশ সেনাদের বিধবাদের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে প্রজনন চিকিৎসার (ফার্টিলিটি ট্রিটমেন্ট) সুযোগ দেওয়া হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্বামীর মৃত্যুর পাঁচ বছর পর্যন্ত—যদি তারা পুনরায় বিবাহ না করেন—যুদ্ধে নিহত সেনাদের বিধবারা বিনামূল্যে ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) এবং কৃত্রিম প্রজনন (আর্টিফিশিয়াল ইনসেমিনেশন) সুবিধা পাবেন। এই সুবিধার জন্য তাদের এমন একটি নথিপত্র জমা দিতে হবে, যেখানে প্রমাণ থাকবে যে, স্বামীর মৃত্যুর পর তারা শুক্রাণু সংরক্ষণ ও ব্যবহারের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিলেন। এই আইনের সঙ্গে যুক্ত ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, 'অনেক পুরুষ দেশের সুরক্ষার জন্য অল্প বয়সেই যুদ্ধে যান এবং তাদের অনেকেরই সন্তান হওয়ার সুযোগ থাকে না।' আরও উল্লেখ করা হয়েছে, 'সংক্ষিপ্ত সময়ের ছুটিতেও তা সবসময় সম্ভব হয় না। কোনো স্বামী যুদ্ধে নিহত হলে, তার স্ত্রী প্রিয় মানুষটির সন্তান ধারণ ও মা হওয়ার সুযোগ হারান।' এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার জনসংখ্যা সংকট আরও প্রকট। যুদ্ধ, বিপুল প্রাণহানি এবং লক্ষ লক্ষ তরুণ পেশাজীবীর দেশত্যাগের কারণে দেশের জনসংখ্যা ভয়াবহভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
ক্রেমলিনের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে সতর্ক করেছেন। বর্তমানে রুশ নারীরা গড়ে ১.৪-এরও কম সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন, যেখানে জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় প্রতিস্থাপন হার ২.১। এক দশক আগের তুলনায় বর্তমান জন্মহার প্রায় ২০ শতাংশ কম। গত বছর রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান সংস্থা রসস্ট্যাট জন্ম ও মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ বন্ধ করে দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ সামরিক বাহিনীর বিপুল জনবল ক্ষতির তথ্য গোপন রাখার চেষ্টা চলছে। 'বিদেশি এজেন্ট' হিসেবে চিহ্নিত জনমিতি বিশেষজ্ঞ আলেক্সেই রাকশা জানিয়েছেন, চলতি বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে জন্ম হয়েছে মাত্র ২ লক্ষ ৭২ হাজার শিশুর। দুই শতাব্দীর মধ্যে কোনো প্রান্তিকে এটিই সর্বনিম্ন জন্মসংখ্যা। অনুমান করা হচ্ছে, প্রতি বছর জন্মের চেয়ে প্রায় ৬ লক্ষ বেশি মৃত্যু হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় ভ্লাদিমির পুতিনের সরকার মায়েদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা চালু করেছে, গর্ভপাতের ওপর বিভিন্ন অঞ্চলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং রক্ষণশীল মূল্যবোধে ফিরে আসার প্রচার চালাচ্ছে।
অতীতে পুতিন পরিবারগুলোকে ৮ থেকে ১০টি সন্তান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, 'অনেক সন্তান ও বড় পরিবার গড়ে তোলা অবশ্যই সমাজের স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হতে হবে।' সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সরকার নিহত সেনাদের বিধবাদের জন্য আরও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা প্রদান করেছে। গত এপ্রিলে পুতিন একটি আইনে স্বাক্ষর করেন, যার ফলে নিহত সেনাদের জীবিত স্বামী বা স্ত্রীরা রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। সন্তান ধারণের ক্ষেত্রেও মস্কো ব্যতিক্রম নয়; ইসরায়েলের আদালতও যুদ্ধে নিহত সেনাদের মৃত্যুর পর তাদের শুক্রাণু সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছে। ৭ অক্টোবরের হামলার পর এই ধরনের ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি পরিবার তাদের আপনজনদের শুক্রাণু সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করেছে।।
দাবি মেটানোর আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করল ককরোচ পার্টি, বিক্ষোভকারীদের ঘরে ফেরার আহ্বান