Published : 26 Jul 2026, 11:27 PM
সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) খোন্দকার মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম এক রাতে তিনজনকে হত্যা করার ঘটনায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এই জবানবন্দিতে তিনি ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও খুনের ঘটনায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজ্জাদুল ইসলাম আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য প্রদান করেন। এই মামলার একমাত্র অভিযুক্ত জিয়াউল আহসান বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। জবানবন্দিতে সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে একটি বিশেষ অপারেশনে তারা অংশ নেন। সেই রাতে র্যাবের চারটি গাড়ি টঙ্গীর আহসান উল্লাহ মাস্টার ফ্লাইওভার পার হয়ে প্রায় চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ মিনিট ভ্রমণ করে।
এরপর গাড়িগুলো একটি সেতুর ওপর থামে। সেখানে চোখ-হাত বাঁধা এক বন্দীকে গাড়ি থেকে নামানো হয়। জিয়াউল আহসান সেই বন্দীকে ধরে রেলিংয়ের সঙ্গে ঠেকিয়ে মাথার পেছন দিক থেকে গুলি করেন এবং তারপর তাকে নিচে ফেলে দেন। র্যাবে যোগদানের কয়েক ঘণ্টা পরে এই নৃশংস ঘটনা দেখে তিনি গভীরভাবে হতবাক হয়ে যান, যখন তিনি বুঝতে পারেন যে আরও দুজনকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগে লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী আশরাফ কায়সার ট্রাইব্যুনাল-২-এ ২৭তম সাক্ষী হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গসংগঠনগুলো ফ্যাসিবাদী ও সহিংস রূপ নিয়েছে।
গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য এটি এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। আশরাফ কায়সার জোর দিয়ে বলেন যে ফ্যাসিবাদী শক্তি এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার একসঙ্গে চলতে পারে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের দায়ভার পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি এবং র্যাবের প্রধানের উপর বর্তায়। এই মামলার সকল আসামি এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা দায়বদ্ধ এবং তাদের বিচার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করল ইরান; হরমুজ প্রণালীতে নতুন করিডোর প্রত্যাখ্যান