Published : 20 May 2026, 11:45 PM
ইউনিসেফ জানিয়েছে, বাংলাদেশে গত বছর হামের টিকা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সংকট দেখা দিয়েছিল, যদিও সংস্থাটি বারবার সরকারকে এই বিষয়ে সতর্ক করেছিল। ২০২৪ সাল থেকেই ইউনিসেফ অন্তত দশবার সরকারকে সম্ভাব্য এই সংকট সম্পর্কে জানিয়েছিল, কিন্তু টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যায়। বুধবার (২০ মে) বিকেলে ঢাকাতে ইউনিসেফ বাংলাদেশের জেপিজি কনফারেন্স রুমে ‘হামের প্রাদুর্ভাব ও মোকাবিলার পদক্ষেপ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রায় ১ কোটি ৭ লক্ষ ৮০ হাজার ডোজ হামের টিকা পেয়েছে, যা দেশটির মোট চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ।
বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৭ কোটি ডোজ টিকার প্রয়োজন হয়, কিন্তু পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, তারা ২০২৪ সাল থেকে সরকারের সাথে অন্তত দশটি বৈঠকে এই টিকা সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং পাশাপাশি ৫-৬টি আনুষ্ঠানিক পত্রও পাঠিয়েছে। স্বাস্থ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়—উভয়কেই এই বিষয়ে আগে থেকে জানানো হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, টিকাদান কর্মসূচিতে দীর্ঘ বিরতির কারণে অনেক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যা হাম সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের সৃষ্টি করেছে। তবে ইউনিসেফ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে যাচ্ছে।
চলতি বছরের মে মাস থেকে দেশে পুনরায় হামের রুটিন টিকা সরবরাহ শুরু হয়েছে। সরকার এবং উন্নয়ন সহযোগীরা এখন টিকাদান কর্মসূচিকে দ্রুত বাস্তবায়ন, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রাদুর্ভাবপ্রবণ এলাকায় নজরদারি জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ইউনিসেফ জানায়, এই সংকট মূলত অর্থ বা তহবিলের অভাবের কারণে হয়নি, বরং টিকা কেনার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে সময়মতো টিকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।।
ইরানে হামলার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর দাবি