Published : 19 May 2026, 10:27 AM
যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে ইরানের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউসের মতে, এই প্রস্তাবে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন নেই এবং এটি একটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য যথেষ্ট নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র অ্যাক্সিওসকে এই তথ্য জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংঘাতের অবসান চান, কিন্তু ইরানের অনড় অবস্থান ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দিতে নারাজ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক পথে হাঁটতে বাধ্য হতে পারে। দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে পারেন, যেখানে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে। একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, “ইরান যদি তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে বসতে ব্যর্থ হলে বোমার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে বাধ্য হবে।” রোববার ইরানের নতুন প্রস্তাব হাতে পাওয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাক্সিওসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি বলেন, “সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ইরান যদি নমনীয়তা না দেখায়, তবে তাদের আগের চেয়েও কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।
” ইরানের নতুন প্রস্তাবে কী আছে? রোববার রাতে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের পাল্টা প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছায়। তবে শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার মতে, এই প্রস্তাবে আগের তুলনায় সামান্যই পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবে ইরান তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি কিছুটা বিশদভাবে জানিয়েছে। তবে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করা বা মজুত করা ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রচার করা হয় যে, আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে রাজি হয়েছে। তবে ওই মার্কিন কর্মকর্তা পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে, ইরান কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ না নিলে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞাই “বিনামূল্যে” তুলে নেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি মার্কিন শীর্ষ ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা তেমন কোনো অগ্রগতি করতে পারছি না। আমরা আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি। এখন সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর পুরো দায়িত্ব ইরানের ওপর।
” তিনি আরও বলেন, “ইরানেরই কিছু ছাড় দেওয়া উচিত। তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে একটি বাস্তবসম্মত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে, আমরা বোমার মাধ্যমে কথা বলতে বাধ্য হব, যা অত্যন্ত দুঃখজনক হবে।” পর্দার পেছনের চিত্র মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তির মূল শর্তগুলো নিয়ে সরাসরি আলোচনা করছে না। বরং তারা পরোক্ষভাবে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। মার্কিন ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, সামান্য হলেও ইরান যে পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে, তা থেকেই বোঝা যায় যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের আরও সামরিক হামলার ভয়ে চিন্তিত। অন্যদিকে, ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, ট্রাম্প নিজেই একটি চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছেন এবং পরিস্থিতি ইরানের পক্ষেই রয়েছে।।
ইরানের শান্তিবার্তা ইসলামাবাদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে; উত্তেজনা প্রশমনে নতুন উদ্যম?