Published : 19 May 2026, 04:51 PM
যুদ্ধ থামানোর জন্য ইরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউসের মতে, এই প্রস্তাবে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন নেই এবং এটি একটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য যথেষ্ট নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং এই বিষয়ে অবগত একটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধ করতে আগ্রহী, কিন্তু ইরানের অনড় মনোভাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক পথে হাঁটতে বাধ্য হতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের 'সিচুয়েশন রুমে' জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে পারেন, যেখানে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে। এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, “ইরান যদি তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে বসতে ব্যর্থ হবে এবং বোমা ব্যবহারের পথ প্রশস্ত হবে।” রবিবার ইরানের নতুন প্রস্তাব হাতে পাওয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাক্সিওসের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, “সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ইরান যদি নমনীয় না হয়, তবে তাদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।” ইরানের নতুন প্রস্তাবে কী আছে? রবিবার রাতে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের পাল্টা প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছায়।
তবে মার্কিন কর্মকর্তার মতে, এই প্রস্তাবে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবে ইরান তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি কিছুটা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছে। কিন্তু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করা বা মজুত করা ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে রাজি হয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ না নিলে কোনো নিষেধাজ্ঞাই তুলে নেওয়া হবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা খুব একটা এগোতে পারছি না। আমরা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। এখন ইরানের ওপর সঠিক প্রতিক্রিয়া জানানোর চাপ রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ইরানের কিছু ছাড় দেওয়া উচিত।
তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে, আমরা বোমার মাধ্যমে কথা বলব, যা অত্যন্ত দুঃখজনক হবে।” পর্দার পেছনের চিত্র মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তির মূল শর্তগুলো নিয়ে সরাসরি আলোচনা করছে না। তারা পরোক্ষভাবে আলোচনার রূপরেখা তৈরির চেষ্টা করছে। মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরান যে পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে, তা থেকেই বোঝা যায় যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার ভয়ে চিন্তিত। অন্যদিকে, ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, ট্রাম্প নিজেই একটি চুক্তির জন্য মরিয়া এবং পরিস্থিতি ইরানের পক্ষেই রয়েছে।।
ইরানে হামলার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর দাবি