Published : 19 May 2026, 04:18 PM
যুদ্ধ থামানোর জন্য ইরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউসের মতে, এই প্রস্তাবে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন নেই এবং এটি একটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য যথেষ্ট নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র অ্যাক্সিওসকে এই তথ্য জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেকোনো মূল্যে একটি চুক্তির মাধ্যমে সংঘাতের অবসান চান। কিন্তু ইরান একের পর এক শর্ত জুড়ে দেওয়ায় এবং পরমাণু কর্মসূচিতে ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক পথে যাওয়ার কথা ভাবছে। দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে পারেন, যেখানে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে। একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, “ইরান যদি তাদের অবস্থানে অনড় থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে বসিয়ে বোমার মাধ্যমেই বিষয়টি সুরাহা করতে হতে পারে।” রোববার ইরানের নতুন প্রস্তাব আসার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাক্সিওসের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, “সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ইরান যদি নমনীয়তা না দেখায়, তবে তাদের আগের চেয়েও কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।
” ইরানের নতুন প্রস্তাবে কী আছে? রোববার রাতে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের পাল্টা প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছায়। তবে শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার মতে, এই প্রস্তাবে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। নতুন প্রস্তাবে ইরান তাদের পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না—এই প্রতিশ্রুতির বিষয়ে কিছুটা বিস্তারিত জানিয়েছে। কিন্তু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করা বা মজুত করা ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রচারিত হয়েছে যে, আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে রাজি হয়েছে। তবে ওই মার্কিন কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন যে, ইরান কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ না নিলে কোনো নিষেধাজ্ঞাই তুলে নেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি মার্কিন শীর্ষ ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা খুব একটা এগোতে পারছি না। আমরা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি। এখন ইরানের ওপর সম্পূর্ণ দায় বর্তায়। তাদেরকেই সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।
” তিনি আরও বলেন, “ইরানের উচিত কিছু ছাড় দেওয়া। তাদের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে একটি বাস্তবসম্মত এবং বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে, আমাদের বোমার মাধ্যমে কথা বলতে হবে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক হবে।” পর্দার পেছনের চিত্র মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তির মূল বিষয়গুলো নিয়ে সরাসরি আলোচনা করছে না। বরং তারা পরোক্ষভাবে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। মার্কিন ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরান যে পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে, তা থেকেই বোঝা যায় যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার ভয়ে চিন্তিত। অন্যদিকে, ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, ট্রাম্প নিজেই একটি চুক্তির জন্য মরিয়া এবং পরিস্থিতি ইরানের পক্ষেই রয়েছে।।
ইরানে হামলার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর দাবি