Published : 24 Apr 2026, 11:08 AM
হেজাজভূমি, যা বর্তমানে সৌদি আরবের দক্ষিণে বিস্তৃত, মক্কার দিকে প্রসারিত প্রাচীন পথগুলোর এক জটিল জাল। এই পথ ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলমানরা প্রতি বছর হজ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সময়ের সাথে সাথে হজগমনের ধরণ পরিবর্তিত হয়েছে; সড়ক ও নৌপথের ব্যবহার কমে এখন আকাশপথে বেশি যাত্রী আসেন। তবে মাত্র এক শতাব্দী আগেও হজ যাত্রীরা মূলত সড়ক ও নৌপথের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। এই পথগুলোর মধ্যে দামেস্ক হয়ে মক্কায় আসা পথটি ছিল সবচেয়ে প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ। মূলত, মক্কা ও হেজাজের সাথে পূর্ব-ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্যিক সম্পর্কগুলোই ধীরে ধীরে হজের পথে রূপান্তরিত হয়। আরও পড়ুনহজের পাঁচ দিনে কী কী হয় ২০২৫ সালের ১৬ মে, ওসমানিয়া সাম্রাজ্যের শেষ লগ্নে, ইস্তাম্বুল থেকে মদিনা পর্যন্ত প্রায় ১৩২০ কিলোমিটার দীর্ঘ হেজাজ রেলপথ নির্মিত হয়েছিল।
এই রেলপথ ৪০ দিনের দীর্ঘ পথ কমিয়ে মাত্র পাঁচ দিনে পৌঁছে দিত। তবে, সামরিক উদ্দেশ্যে নির্মিত এই রেলপথ এক দশকের বেশি সময় সচল থাকতে পারেনি। এই পথের একটি অংশ ছিল আজকের জর্ডানের উপর দিয়ে। জর্ডানের হজ পথের উত্তরে ছিল সবুজ তৃণভূমি, আর দক্ষিণে রুক্ষ মরুভূমি। এর মাঝে দুর্গ, জলাধারসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হয়েছিল, যা হজযাত্রী ও বাণিজ্যিক কাফেলার জন্য ব্যবহৃত হতো। অ্যান্ড্রু পিটারসেন সম্পাদিত ‘দ্য মেডিয়াভেল অ্যান্ড অটোম্যান হজ রুট ইন জর্ডান: অ্যান আর্কিওলজিকাল অ্যান্ড হিস্টোরিকাল স্টাডি’ (জর্ডানে মধ্যযুগীয় ও ওসমানিয়া হজ পথ: একটি প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক সমীক্ষা) বইটিতে এই বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আরও পড়ুনপ্রথম আলোর হজ গাইড: ১৭ বছরে বিতরণ ২২ লাখ কপি ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল প্রকাশিত বইটিতে জর্ডানের হজ পথকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও সিরিয়া ও সৌদি আরবের অংশে অবস্থিত জনবসতি, দুর্গ, বিশ্রামাগার ও জলাধারের বিবরণও রয়েছে।
মূলত, ষোড়শ শতক থেকে ওসমানিয়া শাসকরা এই অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করতেন, যা পরবর্তীকালে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে মূল্যবান হয়ে ওঠে। এর অনেক কিছুই ধ্বংস হয়ে গেলেও কিছু নিদর্শন এখনও টিকে আছে, যা বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। ষোড়শ থেকে অষ্টাদশ শতকে এই পথের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপটও আলোচনা করা হয়েছে। সর্বোপরি, কালাত উনাইজা দুর্গের খনন কাজের ফলাফলও বইটিতে রয়েছে, যা থেকে হজযাত্রী ও সেনাদের সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ‘দ্য মেডিয়াভেল অ্যান্ড অটোম্যান হজ রুট ইন জর্ডান: অ্যান আর্কিওলজিকাল অ্যান্ড হিস্টোরিকাল স্টাডি’; অ্যান্ড্রু পিটারসেন (সম্পাদক), দ্য কাউন্সিল ফর ব্রিটিশ রিসার্চ ইন লেভেন্ট এবং অক্সবো বুকস, অক্সফোর্ড, ২০১২। আরও পড়ুনসুফিসাধক নাসের খসরুর হজ সফর ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল।।