Published : 17 Apr 2026, 05:08 AM
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন আল্লাহর রহমতের প্রতিচ্ছবি। তাঁর দয়া ও ভালোবাসার ছায়া শুধু মানুষ নয়, পশু-পাখির উপরও পড়ত। নবীজির সান্নিধ্যে অসহায় প্রাণীরা খুঁজে পেত পরম আশ্রয় ও নিরাপত্তা। ঐতিহাসিক হুদাইবিয়ার সন্ধির পর নবীজি (সা.) বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে চিঠি পাঠান। তাঁদের মধ্যে মিশরের বাদশাহ মুকাওকিস ছিলেন অন্যতম। নবীজি তাঁর কাছে সাহাবি হাতিব ইবনে আবি বালতাআ (রা.)-কে দূত হিসেবে প্রেরণ করেন। মুকাওকিস ছিলেন একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি এবং ইঞ্জিলের জ্ঞানী।
নবীজির সত্যতা সম্পর্কে অবগত হওয়া সত্ত্বেও, ক্ষমতার হারানোর ভয়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি। তিনি নবীজিকে মূল্যবান উপহার পাঠান, যার মধ্যে ছিল স্বর্ণ, মসৃণ বস্ত্র, তাঁর প্রিয় খচ্চর দুলদুল এবং ‘ইয়াফুর’ নামের একটি গাধা। (ইবনুল কাইয়িম, জাদুল মাআদ, ১/১১৬, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত: ১৯৯৪ খ্রি.) হাতিব (রা.) যখন উপহারগুলো নিয়ে মদিনায় ফিরে আসেন, তখন নবীজি (সা.) মুকাওকিসের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব দেখে মন্তব্য করেন যে তাঁর রাজত্ব বেশি দিন টিকবে না। নবীজি ইয়াফুর গাধাটিকে নিজের কাছে রেখে দেন এবং প্রায়ই তাঁর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের কাজ নিতেন। তিনি মাঝে মাঝে বলতেন, ‘যাও, আবু বকরকে ডেকে আনো’। ইয়াফুর নবীজির নির্দেশে তাঁর ঘরের সামনে গিয়ে সংকেত দিত। নবীজি সেই সংকেত দেখে বুঝতে পারতেন যে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে।
এভাবেই ইয়াফুর অন্যান্য সাহাবিদের কাছেও পরিচিত ও প্রিয় হয়ে ওঠে। নবীজির ইন্তেকালের পর মদিনায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সাহাবিরা ধীরে ধীরে সেই শোক কাটিয়ে উঠলেও, ইয়াফুরের শোক যেন বিরামহীন ছিল। নবীজির মৃত্যুর পর, ইয়াফুর একটি কূপের মধ্যে ঝাঁপ দিয়ে নিজের জীবন প্রান ত্যাগ করে। (ইবনুল আসির, উসদুল গাবা, ৪/৭০৭, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত: ১৯৯৪ খ্রি.) সম্ভবত, ইয়াফুরের এই আত্মত্যাগ ছিল নবীজির প্রতি সৃষ্টির অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। যে ইয়াফুর একসময় নবীজির নির্দেশে বার্তাবাহক হিসেবে সাহাবিদের কাছে ছুটে যেত, তাঁর প্রিয় অভিভাবকের বিদায়ের পর তার কাছে এই পৃথিবী অর্থহীন হয়ে পড়া স্বাভাবিক। ইলিয়াস মশহুদ: আলেম, লেখক ও অনুবাদক।