Published : 18 Apr 2026, 03:07 AM
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ জন ধর্মপ্রাণ মুসলমান সৌদি আরবের মক্কা নগরীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন। তাঁদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালন করবেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে প্রথম হজ ফ্লাইটটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জেদ্দার বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে रवाना হয়। ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমানটি মক্কার পথে যাত্রা করে। এর আগে রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তিনি সরাসরি প্রথম ফ্লাইটের উড়োজাহাজে যান এবং হজযাত্রীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সফল হজ পালনের জন্য দোয়া করেন এবং দেশের জন্য প্রার্থনা জানান। এরপর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ও প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফের এইচ বিন আবিয়াহ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এর আগে আশকোনা হজ ক্যাম্পে যান এবং হজযাত্রীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্লাইট শিডিউল এবং উড়োজাহাজ ভাড়া সংক্রান্ত সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরেই হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে। এ বছর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস মোট হজযাত্রীর প্রায় অর্ধেক পরিবহন করবে। বাকি হজযাত্রীদের বহন করবে সৌদিয়া ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস। প্রথম দিনে মোট ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনার কথা রয়েছে। হজ-পূর্ব ফ্লাইটগুলো আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলবে। মোট ২০৭টি হজ-পূর্ব ফ্লাইট নির্ধারিত আছে, যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১০২টি, সৌদিয়া ৭৫টি এবং ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীলভাবে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং তা ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হজযাত্রীদের জন্য শুভেচ্ছা উপহার পাঠিয়েছেন, যা ইতিমধ্যে ঢাকা হজ অফিসে পৌঁছেছে। হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে হজযাত্রীদের জন্য বিভিন্ন উপহারসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এক লাখ বোতল মিনারেল ওয়াটার, যা ক্যাম্পে আসা হজযাত্রীদের সরবরাহ করা হবে। এছাড়াও, উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের জন্য ব্যাকপ্যাক, ইহরামের জন্য সাবান, পানির পাত্র, পেট্রোলিয়াম জেলি, মিসওয়াক ও আজওয়া খেজুর পাঠানো হয়েছে। এই উপহার সামগ্রীগুলো প্যাকেজিং করে উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের প্রদান করা হবে।।