Published : 08 Apr 2026, 05:08 AM
আধুনিক বিশ্বে বিশুদ্ধ জলের অভাব মেটাতে দূষিত জল বা নর্দমার জল পরিশোধন করে ব্যবহারের চল বাড়ছে। এই ‘পরিশোধিত জল’ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পবিত্র কিনা, এবং তা দিয়ে অজু, গোসল বা পান করা যায় কিনা, তা নিয়ে ইসলামিক পণ্ডিতদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো জলের স্বাদ, রং ও গন্ধ। যদি পরিশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপবিত্র জলের এই তিনটি বৈশিষ্ট্য থেকে দূষণের প্রভাব সম্পূর্ণরূপে দূর হয়ে যায়, তবে সেই জল পবিত্র বলে গণ্য হবে। কারণ জল স্বভাবতই পবিত্র এবং অন্য জিনিসকে পবিত্র করার ক্ষমতা রাখে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “নিশ্চয়ই জল পবিত্র, কোনো কিছুই একে দূষিত করতে পারে না।” (তিরমিজি, হাদিস: ৬৬) তবে এই সাধারণ নির্দেশের একটি বিশেষ দিক আছে। যদি কোনো অপবিত্র বস্তুর কারণে জলের স্বাদ, গন্ধ বা রং পরিবর্তিত হয়, তবে তা অপবিত্র হয়ে যায়। আরও পড়ুন: অজু ভঙ্গের কারণ: পবিত্রতা অর্জনে সতর্কতা।
১০ জুলাই ২০২৫। শাইখ ইবনে উসাইমিন বলেন, আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে জলকে এমনভাবে পরিশোধন করা সম্ভব, যেখানে দূষণের কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট থাকে না। যদি জল তার স্বাভাবিক স্বচ্ছতা ও ঘ্রাণ ফিরে পায় এবং তা জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ হয়, তবে তা দিয়ে অজু, গোসল এবং পান করা—সবই বৈধ। কারণ শরিয়তের বিধান কার্যকারণ সূত্রের উপর নির্ভরশীল। যখন কারণ দূর হয়ে যায়, তখন নিষেধাজ্ঞা আপনাআপনি উঠে যায়। (মাজমু ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িল, ১/১৫-১৬, দার আস-সুরাইয়া, রিয়াদ: ২০০৩) যদি প্রাথমিক বা আংশিক পরিশোধন সত্ত্বেও জলের রং বা গন্ধে দূষণের সামান্যতম চিহ্নও থেকে যায়, তবে সেই জল দিয়ে অজু বা গোসল করা যাবে না। ইমাম নববি (রহ.) উল্লেখ করেছেন, হাদিস বিশারদদের মতে, দূষণের কারণে জলের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হলে তা অপবিত্র হওয়ার বিষয়টি সর্বসম্মত। (আল-মাজমু শারহুল মুহাজ্জাব, ১/১৬০, দারুল ফিকর, বৈরুত: ১৯৯৬)। আরও পড়ুন: ‘আমার দেওয়া পবিত্র বস্তু থেকে তোমরা খাও’ ৩০ মার্চ ২০২৬।
তবে যদি দূষিত জলের প্রভাব থাকা সত্ত্বেও সেই জল বাগান বা জমিতে সেচের কাজে ব্যবহার করা হয়, তবে অধিকাংশ আলেমের মতে, তাতে উৎপাদিত ফসল হারাম হবে না। কারণ গাছপালা দূষিত পদার্থ শোষণ করলেও তা রূপান্তরিত হয়ে যায় এবং শস্য বা ফলের মধ্যে তার প্রভাব থাকে না। (ইবনে উসাইমিন, মাজমু ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িল, ১/১৭, দার আস-সুরাইয়া, রিয়াদ: ২০০৩)। পরিশোধন করা দূষিত জলের বৈধতা নির্ভর করে তার চূড়ান্ত মানের ওপর। যে ক্ষেত্রে দূষণের প্রভাব থেকে যায়, সে ক্ষেত্রে কেবল সেচ বা শিল্পকারখানার মতো নির্দিষ্ট কাজে তা ব্যবহার করা উচিত। একজন মুমিনের পরিচয় হলো ইবাদতের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। যদি পরিশোধন করা জল চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ক্ষতিকর হয়, তবে তা পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আরও পড়ুন: মক্কার খাবার পানির সমস্যা দূর করেছিল নহরে জুবাইদা, ১৬ মার্চ ২০২৫।।