Published : 05 Feb 2026, 05:07 AM
শারীরিক দুর্বলতা, ভ্রমণ অথবা নারীদের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কারণে অনেক সময় রমজানের রোজাগুলো কাজা থেকে যায়। পরম করুণাময় আল্লাহ তা’আলা দয়া করে এই রোজাগুলো পরবর্তীতে পূরণ করার সুযোগ দিয়েছেন। বিশেষ করে শাবান মাস এলেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, এত দেরিতে বা শাবানে কাজা রোজা রাখা যাবে কিনা। যেকোনো কারণে রমজানের রোজা ছুটে গেলে, পরবর্তী রমজান আসার আগে বছরের যেকোনো সময় তা পূরণ করা যায়। এক্ষেত্রে প্রায় এগারো মাস সময় পাওয়া যায়। শওয়াল মাস থেকে শুরু করে শাবান মাস পর্যন্ত এই সুযোগ রয়েছে। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “আর যারা অসুস্থ বা Musafir, তারা অন্য দিনে এই সংখ্যা পূরণ করে নেবে।” (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৪)। আমার ওপর রমজানের কিছু রোজা কাজা ছিল, যা আমি শাবান মাস ছাড়া আদায় করতে পারতাম না। হজরত আয়েশা (রা.)-এর এই कथनটি বুখারিতে লিপিবদ্ধ আছে (হাদিস: ১৯৫০)।
শাবান মাস হলো রমজানের ঠিক আগের মাস। যদি কেউ সারা বছর নানা ব্যস্ততার কারণে বিগত বছরের রোজা পূরণ করতে না পারেন, তবে শাবান মাসই তার জন্য শেষ সুযোগ। শাবান মাসে কাজা রোজা রাখতে শরীয়তে কোনো বাধা নেই। আয়েশা (রা.) থেকে এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তিনি বলেন, “আমার ওপর রমজানের কিছু রোজা কাজা ছিল, যা আমি শাবান মাস ছাড়া আদায় করতে পারতাম না।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৫০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৪৬)। হাদিস বিশারদগণের মতে, আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সেবায় ব্যস্ত থাকার কারণে আয়েশা (রা.) সারা বছর রোজা রাখতে পারতেন না, তাই তিনি শাবান মাসে সেই কাজাগুলো পূরণ করতেন। সুতরাং, যাদের রোজা বাকি আছে, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। শাবান মাস শুরু হওয়ার পর প্রত্যেকের উচিত নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের বিগত রমজানের কোনো রোজা বাকি আছে কিনা, তা যাচাই করা। যদি কেউ গত রমজানে অসুস্থ থাকার কারণে রোজা রাখতে না পারেন এবং সেই অসুস্থতা পরবর্তী রমজান আসা পর্যন্ত থাকে, তবে তাকে বর্তমান রমজানের রোজা রাখতে হবে।
গত বছরের কাজা রোজাগুলো তখন তার ওপর ‘বকেয়া’ হিসেবে থেকে যাবে। সুস্থ হওয়ার পর তিনি সেগুলো পূরণ করবেন। এক্ষেত্রে কোনো পাপ হবে না, কারণ আল্লাহ মানুষের ক্ষমতার বাইরে কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না। (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)। শাবান মাস শুরু হওয়ার পর প্রত্যেকের উচিত নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের বিগত রমজানের কোনো রোজা বাকি আছে কিনা, তা যাচাই করা। যদি বাকি থাকে, তবে আর দেরি না করে শাবানের দিনগুলোতেই তা শেষ করা উচিত। কারণ এটিই রমজানের প্রস্তুতির সেরা সময়।।