Published : 27 Jan 2026, 05:10 AM
ইসলাম একটি সামগ্রিক জীবনদর্শন, যেখানে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য রয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা। খাবার গ্রহণ শুধু শারীরিক প্রয়োজন নয়, এটি উপাসনার অংশও বটে। মুসলিম পরিবারগুলো শৈশব থেকেই তাদের সন্তানদের খাবার আগে ও পরের দোয়া এবং শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়, যাতে এই উত্তম অভ্যাসগুলো তাদের স্বভাবের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়।খাবার শুরুর আগে প্রার্থনা করা নবীজি (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহর দেওয়া অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই এবং শয়তানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেদের রক্ষা করি। ১. আহার শুরুর দোয়া: খাবার শুরু করার সময় কেবল ‘বিসমিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে শুরু করছি) বলা সুন্নত। তবে সম্পূর্ণ দোয়াটি হলো:উচ্চারণ:বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ।অর্থ:আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর বরকতের ওপর নির্ভর করে শুরু করছি।যদি শুরুতে দোয়া পড়তে ভুলে যান: খাবার খাওয়ার সময় মনে পড়লে এই দোয়াটি পড়তে হয়:উচ্চারণ:বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু।অর্থ:এর শুরু এবং শেষ উভয় সময়েই আল্লাহর নাম নিচ্ছি। আরও পড়ুনহালাল খাদ্য গ্রহণ কেন জরুরি ৩১ আগস্ট ২০২৫ ২. আহার শেষের দোয়া: খাবার শেষ করার পর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এই দোয়াটি পাঠ করতে হয়:উচ্চারণ:আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আত’আমানা ওয়া সাকানা ওয়া জা’আলানা মিনাল মুসলিমিন।
অর্থ:সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের খাদ্য দিয়েছেন, পান করিয়েছেন এবং মুসলিম হওয়ার সৌভাগ্য দান করেছেন। শয়তান থেকে রক্ষা:সহিহ মুসলিমের এক হাদিসে বর্ণিত আছে, যখন মানুষ খাবার শুরু করার আগে আল্লাহর নাম নিতে ভুলে যায়, তখন শয়তান সেই খাবারে অংশীদার হয়। আল্লাহর নাম নেওয়ার মাধ্যমে আমরা শয়তানকে আমাদের খাদ্য থেকে দূরে রাখি।নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা:আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়া রিজিকের জন্য কৃতজ্ঞ থাকা একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য। দোয়া পাঠের মাধ্যমে আমাদের অন্তরে এই অনুভূতি জাগ্রত হয় যে এই খাবার আমার প্রচেষ্টায় নয়, বরং আল্লাহর দয়ায় প্রাপ্ত।বরকত লাভ:দোয়ার মাধ্যমে খাবারে বরকত সৃষ্টি হয়, যা আমাদের শরীর ও মনের জন্য পুষ্টিকর ও কল্যাণকর হয়।ইবাদতের প্রতিদান:যখনই কোনো কাজ বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করা হয় এবং শেষে আল্লাহর প্রশংসা করা হয়, তখন সেই সাধারণ কাজটিও ইবাদত হিসেবে গণ্য হয় এবং এর জন্য প্রতিদান পাওয়া যায়। আরও পড়ুনচোখের স্বাস্থ্যের জন্য খাদ্য ও সুন্নাহভিত্তিক অভ্যাস ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ সুন্নাহ অনুযায়ী খাবার গ্রহণের ১০টি শিষ্টাচারখাবার গ্রহণের সময় দোয়া পাঠ করার পাশাপাশি কিছু শিষ্টাচার মেনে চলা সুন্নত:হাত ধোয়া: খাবারের আগে ও পরে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নেওয়া।বিসমিল্লাহ বলা: আহারের শুরুতে আল্লাহর নাম নেওয়া।ডান হাতে খাওয়া: সবসময় ডান হাত দিয়ে খাবার গ্রহণ ও পানি পান করা।বসে খাওয়া: দাঁড়িয়ে পানাহার না করা সুন্নত।
পরিমিত আহার: অতিরিক্ত ভোজন এড়িয়ে চলা এবং পেটের এক-তৃতীয়াংশ খালি রাখা।খাবারের ত্রুটি না ধরা: খাবারের কোনো দোষ না খুঁজে ভালো লাগলে খাওয়া, না লাগলে এড়িয়ে যাওয়া।খাবার নষ্ট না করা: থালা পরিষ্কার করে খাওয়া এবং খাবার অপচয় না করা।সামনে থেকে খাওয়া: পাত্রের মাঝখান থেকে না খেয়ে নিজের সামনের অংশ থেকে খাওয়া।পানির আদব: পানি পান করার সময় বসে তিন শ্বাসে পান করা।শেষের দোয়া: আহার শেষে আল্লাহর প্রশংসা করে দোয়া পাঠ করা।খাবারের এই ছোট ছোট দোয়া ও নিয়মকানুন আমাদের জীবনকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করে তোলে। এটি কেবল একটি অভ্যাস নয়, বরং আল্লাহর সঙ্গে আমাদের আধ্যাত্মিক সম্পর্ক স্থাপন করে।আমরা যদি ছোটবেলা থেকেই আমাদের সন্তানদের এই সুন্নাহগুলো হাতে-কলমে শেখাই, তবে তারা বড় হয়ে একজন সচেতন ও কৃতজ্ঞ মুসলিম হিসেবে জীবনযাপন করবে। আরও পড়ুনমহানবী (সা.) যেভাবে খাবার গ্রহণ করতেন ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫।