Published : 24 Aug 2026, 01:16 AM
ভারতের ওডিশা উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘এমভি ওশান উইনার’ ডুবে যাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন নিখোঁজ। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর থেকে তাঁর পরিবার গভীর উদ্বেগে রয়েছে। লৌহ আকরিক নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়া ওই জাহাজটি শনিবার বন্দর থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ডুবে যায়। ভারতীয় কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে থাকা ২৪ জন ক্রুরদের মধ্যে ২০ জন চীনা, ৩ জন মিয়ানমারের এবং ১ জন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। এই ঘটনায় ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী যৌথভাবে নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। তবে বাংলাদেশি নাগরিক আবদুল্লাহ আল মামুনের সঠিক অবস্থান সম্পর্কে এখনো তাঁর পরিবারকে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। নিখোঁজ মামুনের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার সদর উপজেলায়। প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বললে, নিখোঁজ মামুনের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল বাকির জানান, তারা এখনো কোনো নির্দিষ্ট আপডেট পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ভারতীয় কোস্টগার্ডের পেজে কখন নতুন তথ্য প্রকাশিত হবে বা কোনো ব্রিফিং হচ্ছে কিনা, সেই অপেক্ষাতেই রয়েছে পরিবার।
শনিবার দুপুরের দিকে পরিচিতদের মাধ্যমে তাঁরা জাহাজডুবির খবর জানতে পারেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা ওই বিদেশি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, কিন্তু তারাও মামুনের অবস্থান সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি। জাহাজটি কীভাবে ডুবে গেল, তার কারণও এখনো স্পষ্ট নয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুসারে, শনিবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে ভারতের সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পায়। এরপর কাছাকাছি থাকা বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমটি আইসোপোস’-কে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। রাত আটটার দিকে ওই জাহাজ থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে ভারতীয় কোস্টগার্ডের ‘বরদ’ ও ‘আনমোল’ নামের দুটি টহল জাহাজ এবং ‘বিজিত’ নামের আরেকটি জাহাজও অভিযানে যুক্ত হয়। ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধান চলছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের উদ্বেগ আরও বাড়ে।
মামুনের বড় ভাই জানান, 'আম্মুর আগে থেকেই হৃদরোগের সমস্যা ছিল, আব্বুরও বয়স হয়েছে। মামুনের ঘটনা জানার পর থেকে পরিবারের সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। মামুনের স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বারবার এবং সঠিক কোনো তথ্য না পাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।' নিখোঁজ নাবিকের খোঁজে তাঁর নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করছেন বাল্যবন্ধু সাদাত আল কাবিজু। তিনি জানান, গত এপ্রিল মাসের শেষ দিকে মামুন ওই জাহাজে যোগ দেন এবং বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর সঙ্গে মামুনের সর্বশেষ কথা হয়, এরপরই এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকেও নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।।
শিক্ষকের হাতে ৬ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু: শ্রেণিকক্ষে শারীরিক শাস্তির বিতর্ক ও তীব্র জনরোষ