Published : 23 Aug 2026, 02:16 AM
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক ভয়াবহ ঘটনা সামনে এসেছে। স্কুলের শ্রেণিকক্ষে এক নারী শিক্ষকের হাতে ছয় বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে, যেখানে শিশুটিকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এই নৃশংস ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে, যা গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) প্রকাশিত হওয়ার পর তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনা আবারও ভারতে স্কুলগুলিতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি দেওয়ার বিতর্ককে সামনে এনেছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। ফুটেজে দেখা গেছে, ক্লাসরুমে এক শিক্ষিকা শিশুটির জামা ধরে টেনে এনে মুখে চড় মারেন এবং আঘাতের ফলে শিশুটি মাটিতে পড়ে যায়। নিহত শিশুটির নাম প্রণয় তেজ।
পুলিশ পরিদর্শক পুডি তারা প্রসাদ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৯৪ ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার জন্য রিপোর্ট অপেক্ষায় রয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের শিক্ষা ও আইটি মন্ত্রী নারা লোকেশ ফেসবুকে জানিয়েছেন যে, 'আমরা দোষীদের এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।' তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। শুক্রবার এক্স পোস্টে তিনি আরও মন্তব্য করেন, 'একজন বাবা হিসেবে, প্রণয় তেজের সঙ্গে যা ঘটেছে তা আমি মেনে নিতে পারছি না। তাদের কষ্ট কল্পনাও করতে পারি না। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তির কোনো স্থান নেই। শৃঙ্খলার নামে কোনো শিশুকে সহিংসতার শিকার হতে দেওয়া উচিত নয়।' তিনি জানান, ইতিমধ্যেই পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির সূত্রে জানা যায়, এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারগুলো হাসপাতালে জড়ো হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে। প্রণয় তেজের বাবা জানান, সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে তাঁর ছেলে সুস্থ ছিল। তিনি বলেন, 'সকালে প্রায় ৮টার দিকে আমার ছেলে ঘুম থেকে ওঠে এবং স্কুলে যেতে চায়, সে জেদ করেছিল।' ঘটনাটি নিয়ে তেলুগু দেশম পার্টির (টিডিপি) রাজ্য সভাপতি পাল্লা শ্রীনিবাস রাও মন্তব্য করেছেন যে সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে এবং শিক্ষামন্ত্রী ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। উল্লেখ্য, ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক নির্যাতন বা শাস্তি দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে ২০১৮ সালের এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে স্বল্প আয়ের পরিবারের প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী স্কুলে শিক্ষকদের কাছ থেকে কোনো না কোনো শারীরিক শাস্তির সম্মুখীন হয়।।
কাতারে আটক পাইলটদের দ্রুত চিকিৎসার দাবিতে ইরানের জোরালো আবেদন