Published : 22 Aug 2026, 05:16 PM
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশের বিপরীতে নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত না করার কারণে দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দল একটি আবেদন দাখিল করেছে। এই পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে পিটিআইয়ের মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা আজ শনিবার সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি ইমরান খানের বোন উজমা খান এবং আইনজীবী উজাইর ভান্ডারির সঙ্গে যৌথভাবে এই আইনি আবেদনটি পেশ করেন। গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে ইসলামাবাদের বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল। এর আগে, গতকাল শুক্রবার ভোরে ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সরকারি হাসপাতাল পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের দ্বারা শারীরিক সুস্থ ঘোষণা হওয়ার পর তাঁকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সরকারের এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছেন যে, শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের সামনে ও পথে পিটিআইয়ের নেতা-কর্মীদের ভিড়ের কারণে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। এই উদ্বেগের ভিত্তিতে শেষ মুহূর্তে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ইমরান খানকে সরকারি পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তারার দাবি, শিফা হাসপাতালের চিকিৎসক দলও পিআইএমএসে উপস্থিত ছিল। হাসপাতালে স্থানান্তরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইমরান খানকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পিটিআইয়ের এই আবেদনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের গত মঙ্গলবারের আদেশ লঙ্ঘনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। একই সাথে, আবেদনকারীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান এবং আদালতে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
আবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আদালত অবমাননার জন্য দোষী ঘোষণা করে আইন অনুযায়ী শাস্তি প্রদানেরও দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ইমরান খানকে দ্রুত শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার অনুরোধ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আদেশ কার্যকর করতে একজন আদালত কর্মকর্তা বা স্থানীয় কমিশন নিয়োগের আবেদনও পিটিআই করেছে। আরও পড়ুন সরকারের পুনর্বিবেচনার আবেদন ফেরত পাঠালেন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট২০ আগস্ট ২০২৬।
শিক্ষকের হাতে ৬ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু: শ্রেণিকক্ষে শারীরিক শাস্তির বিতর্ক ও তীব্র জনরোষ