Published : 22 Aug 2026, 04:16 AM
জাপানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যে বিতর্কিত দ্বীপগুলোর আশেপাশে সফর করেছিলেন, সেই অঞ্চলে রুশ নৌবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়। এই সামরিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ জানিয়ে জাপান তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওমানে সফরের সময় জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি স্পষ্ট করে বলেন, 'ফোর নর্দার্ন আইল্যান্ডস (চারটি উত্তর দ্বীপ) অঞ্চলে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির কোনো পদক্ষেপ আমরা মেনে নিতে পারি না। কারণ, এটি আমাদের দেশের সার্বভৌম অবস্থানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।' এই পরিস্থিতিতে জাপান তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। রুশ প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা বিরোধপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম দ্বীপ ইতুরুপু (যা জাপানে এতোরোফু নামে পরিচিত) থেকে ভূমি থেকে জাহাজে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে প্রায় তিনশ কিলোমিটার দূরের সমস্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
এই সামরিক মহড়ায় একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন এবং একটি গাইডেড-মিসাইল ক্রুজারও অংশ নেয়। গত সপ্তাহে পুতিন এই দ্বীপগুলোর মধ্যে ইতুরুপ সফর করার পর তokines ও মস্কোর মধ্যে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়। জাপানের দৃষ্টিতে এই দ্বীপগুলো 'নর্দার্ন টেরিটরিজ' বা 'চারটি উত্তর দ্বীপ'। অন্যদিকে, রাশিয়া এগুলোকে কুরিল দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করে। এই অঞ্চল নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত বিদ্যমান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে সোভিয়েত ইউনিয়ন এই দ্বীপগুলো জাপানের কাছ থেকে দখল করেছিল।
রুশ নৌবাহিনীর এই সামরিক মহড়া গত ৪ আগস্ট শুরু হয় এবং জাপানকে আগেই জানানো হয়েছিল যে এতে সরাসরি গোলাবর্ষণের মহড়া থাকবে। ৫ আগস্ট জাপান এই বৃহৎ সামরিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়। রুশ সংবাদ সংস্থা তাস অনুযায়ী, এই মহড়ায় রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের প্রায় ষাটটি যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন ও সহায়ক জাহাজ, ৩০টি বিমান, হেলিকপ্টার এবং ড্রোন, এবং তেরো হাজারেরও বেশি সেনাসদস্য অংশগ্রহণ করে। আরও জানা যায়, গত ১২ আগস্ট বিরোধপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জ এবং হোক্কাইডোর উত্তরে অবস্থিত রাশিয়ার মালিকানাধীন দ্বীপ শাখালিন ভ্রমণের সময় পুতিন রুশ নৌবাহিনীর ফ্ল্যাগশিপ 'ভারিয়াগ' থেকে সামরিক মহড়ার কিছু অংশ পর্যবেক্ষণ করেন। এই সামরিক অনুশীলনটি আগামী ২৯ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।।