Published : 23 Aug 2026, 03:16 AM
রংপুরের কাউনিয়ায় একটি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সরকারি ভাতা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওয়ার্ড বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় বিএনপি কর্তৃক অভিযুক্ত নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত নেতার নাম সাইদুল ইসলাম। তিনি কাউনিয়ার হারাগাছ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। গত শুক্রবার রাতে হারাগাছ পৌর বিএনপির সভাপতি মোনায়েম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে তাঁকে শোকজ করা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হারাগাছ পৌর শহরের মোল্লাটারী জামে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সরকারি ভাতার বিষয়টি নিশ্চিত করার নামে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
এই বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে যে কেন তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, মোল্লাটারী জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন নুর আমীন জানিয়েছেন, সরকারি ভাতার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি নেতা সাইদুল ইসলাম প্রথমে তাঁদের তিনজনের কাছে চব্বিশ হাজার টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে কথাবার্তার এক পর্যায়ে ৩০ হাজার টাকা দিলে নাম তালিকাভুক্ত করা হবে বলে তিনি জানান। এরপর তাঁরা সাইদুল ইসলামকে প্রথমে পনেরো হাজার টাকা দেন এবং বাকি অর্থ পরে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে এই টাকা নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সাইদুল ইসলাম সেই টাকা ফেরত দেন। তবে, বিএনপি নেতা সাইদুল ইসলাম এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এগুলো শুধুই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।
আমি কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি।’ শনিবার দুপুরে হারাগাছ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন নিশ্চিত করেছেন যে, সরকারি ভাতার নামে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কারও কাছ থেকে অর্থ নেওয়া সম্পূর্ণ অপরাধ। সাইদুলের টাকা নেওয়া এবং পরে তা ফেরত দেওয়ার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নজরে এলে পৌর বিএনপির নেতারা তদন্ত শুরু করেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় তাঁকে শোকজ করা হয়েছে।।
শিক্ষকের হাতে ৬ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু: শ্রেণিকক্ষে শারীরিক শাস্তির বিতর্ক ও তীব্র জনরোষ