Published : 19 May 2026, 11:07 PM
জার্মানির হামবুর্গে তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো বাংলা বইমেলা ও কার্নিভাল – প্রবাসের বুকে এক আনন্দধারা। এই উৎসব যেন বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর ভালোবাসার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। পুরো দিন জুড়ে ছিল বইয়ের সুবাস, সঙ্গীতের মূর্ছনা আর শিল্পকলার ছোঁয়া। ‘বাংলার পার্বণ’ নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে হামবুর্গের হর্নার ফ্রাইহাইটে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম এবং বয়স্ক বাঙালিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। মৃদুল রায়, ‘বাংলার পার্বণ’-এর অন্যতম সংগঠক, বলেন, “বিদেশের মাটিতে আমাদের সংস্কৃতি আর ভাষার প্রতি আগ্রহ ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে শিকড়ের সাথে যুক্ত করতে এই ধরনের আয়োজন খুব জরুরি।” প্রবাসী সাংবাদিক শ্রাবণ রহমান বলেন, প্রবাস জীবনে বাংলা সাহিত্য, সঙ্গীত ও সংস্কৃতি চর্চা আমাদের আত্মপরিচয়কে আরও দৃঢ় করে। তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষার মাধুর্য পৌঁছে দিতে নিয়মিত বই পড়া ও দেশীয় গান শোনার গুরুত্বের কথা বলেন।
হামবুর্গ পার্লামেন্টের সদস্য ও আইনজীবী মেহরিয়া আশুফতাহ বলেন, একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়তে সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া খুবই দরকারি। এছাড়াও, ২০২৩ সালে ‘প্রবাসী ভারতীয় সম্মান’ পুরস্কার পাওয়া বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তা অমল মুখোপাধ্যায় শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির আদান-প্রদানে তাঁর অবদানের কথা বলেন। পাঠকেরা দূর প্রবাসের জীবনের গল্প, ছবি, লেখা ও ভিডিও ই-মেইলে ([email protected]) পাঠাতে পারেন। এবারের কার্নিভ্যালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে ছিল নৃত্য, দেশাত্মবোধক গান, ব্যান্ড সঙ্গীত এবং কবিতা আবৃত্তি। শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা প্রবাসের আকাশে যেন এক টুকরো বাংলা নিয়ে আসে। দর্শকদের করতালি আর উল্লাসে উৎসবটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
হামবুর্গে বসবাস করা শিশু, কিশোর, তরুণ এবং প্রবীণসহ সকল বাঙালি এই আনন্দঘন মিলনমেলায় অংশ নিয়েছিলেন। বই, সংস্কৃতি আর বাঙালিয়ানার মিশেলে তৈরি এই উৎসব প্রবাসে বসেও যেন বাংলার মাটির গন্ধ মনে করিয়ে দেয়। ‘বাংলার পার্বণ’-এর স্থায়ী সদস্য ও খাদ্য-পুষ্টি বিজ্ঞানী কামাল হোসেন ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই বইমেলা ও কার্নিভাল আয়োজনের আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে দিতে এবং নতুন প্রজন্মকে তাদের শিকড়ের সাথে পরিচিত করাতে এই আয়োজন অব্যাহত থাকবে।।
শিক্ষকের হাতে ৬ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু: শ্রেণিকক্ষে শারীরিক শাস্তির বিতর্ক ও তীব্র জনরোষ