Published : 17 May 2026, 03:07 AM
এশিয়া জুড়ে বৃত্তাকার অর্থনীতি এবং পরিবেশ-বান্ধব উন্নয়নকে বেগবান করার উদ্দেশ্যে ঢাকায় যাত্রা শুরু করলো ‘সোসাইটি ফর এশিয়ান সার্কুলার ইনোভেশন নেটওয়ার্ক’ বা ‘সাচিন’। প্রতিষ্ঠানটির মূলমন্ত্র – ‘চিন্তা করো বৃত্তাকারে, উদ্ভাবন করো আঞ্চলিকভাবে, প্রভাব ফেলো বিশ্বজুড়ে’। সাচিনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মন্ত্রে প্রতিফলিত হয়েছে এমন এক এশিয়ার স্বপ্ন, যা বৃত্তাকার অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বকে পথ দেখাবে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)-এর কনফারেন্স রুমে গত শুক্রবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাচিন আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সাচিন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে কেন্দ্র করে কাজ শুরু করেছে।
তবে, ধীরে ধীরে কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ, আবাসন, স্বাস্থ্য, প্লাস্টিক, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, আর্থিক পরিষেবা, পানি, স্যানিটেশন এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্পসহ অন্যান্য খাতেও তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সংস্থাটি গবেষণা ও উন্নয়ন, নীতি নির্ধারণে পরামর্শ, বিভিন্ন শিল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধি, জ্ঞান বিতরণ এবং জনসচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেবে। সাচিনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, “গবেষণা, উদ্ভাবন, নীতি প্রণয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে এশিয়াতে টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশনের সার্কুলার ইকোনমি, বেসরকারি খাত ও পরিবেশ বিষয়ক অ্যাটাশে-প্রোগ্রাম ম্যানেজার হুবার্ট ব্লম এবং ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের চেয়ারপারসন নূরিয়া লোপেজ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সাচিনের নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, ভাইস প্রেসিডেন্ট শিয়াবুর রহমান শিহাবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে ছিলেন। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সাচিন বেশ কয়েকটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে এশিয়ান সাসটেইনেবিলিটি ডেটা অ্যান্ড এআই পোর্টাল, বৃত্তাকার টেকনোলজি ও উদ্ভাবন মার্কেটপ্লেস, সাচিন একাডেমি অ্যান্ড সার্টিফিকেশন, বৃত্তাকার সমাধানে বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এবং এশিয়ান সার্কুলার ইকোনমি অ্যান্ড ক্লাইমেট সামিট। গবেষণাপ্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের কাজ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। সার্কুলার ইকোনমি হলো এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে পণ্য ও সম্পদকে দীর্ঘকাল ব্যবহার করা হয়, পুনর্ব্যবহার করা হয় এবং বর্জ্যকে নতুন সম্পদে রূপান্তরিত করা হয়।।