Published : 16 May 2026, 04:43 AM
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় ধরনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সাফল্যের দাবি করেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, চীন শুধু মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতিই দেয়নি, বরং তেহরানকে কোনো প্রকার সামরিক সহায়তা না করার ব্যাপারেও মৌখিক নিশ্চয়তা দিয়েছে। ট্রাম্পের মতে, বেইজিং চায় না ইরানের হাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকুক। শি জিনপিংয়ের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, চীন ইরানকে কোনো সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে না। তিনি বলেন, “শি জিনপিং স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তিনি কোনো সামরিক সরঞ্জাম দেবেন না। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা।” একইসঙ্গে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়েও চীন সম্মত হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি উল্লেখ করেন, চীন এই অঞ্চল থেকে প্রচুর তেল আমদানি করে, তাই তারা এই জলপথটি নিরাপদ রাখতে আগ্রহী। এমনকি, এই অচলাবস্থা নিরসনে শি জিনপিং মধ্যস্থতা করার বা সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প আরও জানান, চীন ২০০টি মার্কিন ‘বোয়িং’ বিমান কেনার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
“বোয়িং ১৫০টি বিমান বিক্রি করতে চেয়েছিল, কিন্তু শি জিনপিং ২০০টি বড় বিমানের অর্ডার দিয়েছেন। এর ফলে আমেরিকায় বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে,” তিনি বলেন। এছাড়াও, চীন এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানিতে রাজি হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “আমরা টেক্সাস, লুইজিয়ানা এবং আলাস্কা থেকে চীনা জাহাজে করে তেল পাঠানো শুরু করব। তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জ্বালানি, আর আমাদের কাছে এর অফুরন্ত ভাণ্ডার রয়েছে।” পাশাপাশি, চীন বিপুল পরিমাণ মার্কিন সয়াবিনসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যও কিনবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিং একজন ‘আন্তরিক মানুষ’। তিনি আরও বলেন, “শি জিনপিং পুরোপুরি পেশাদার... তার মধ্যে কোনো লুকোচুরি বা জটিলতা নেই। এটি একটি ইতিবাচক দিক।” ট্রাম্পের মতে, হলিউড যদি কখনো শি জিনপিংয়ের চরিত্রে অভিনেতা খোঁজে, তবে তার মতো ব্যক্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন।
ট্রাম্প বলেন, “তিনি বেশ লম্বা। এখানকার মানুষের উচ্চতা সাধারণত কম হওয়ায় তাকে দীর্ঘদেহী মনে হয়।” এবারের বাণিজ্য আলোচনা আগের চেয়ে অনেক বেশি ফলপ্রসূ হয়েছে বলে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, গতবার স্বাক্ষরিত ৩৬টি চুক্তির চেয়ে এবারের সমঝোতাগুলো আরও বড়। তিনি জানান, চীন এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিনসহ প্রচুর পরিমাণে কৃষিপণ্য কিনবে। চীনের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি চীনের বিশাল বাজার আমেরিকার জন্য উন্মুক্ত করতে চান। বেইজিংয়ের এই সফর ও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ককে তিনি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ‘সেরা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।।
আমেরিকায় বিদেশি ছাত্রের সংখ্যা কমল ২০ শতাংশ, ভিসা জটিলতাই কি কারণ?