Published : 17 May 2026, 12:57 AM
সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৭ সালের মধ্যে একটি অত্যাধুনিক পাইপলাইন চালু করার মাধ্যমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল রপ্তানির ক্ষমতা দ্বিগুণ করতে যাচ্ছে। আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (অ্যাডনক) শুক্রবার (১৫ মে) এক বিবৃতিতে জানায়, ওমান উপসাগরের ফুজাইরাহ বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত এই পাইপলাইনের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে চলছে। আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অ্যাডনক জানিয়েছে, প্রকল্পটি ইতিমধ্যেই বাস্তবায়িত হতে শুরু করেছে। বর্তমানে, আমিরাতের হাবশান-ফুজাইরা পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক ১৮ লক্ষ ব্যারেল তেল রপ্তানি করা হয়। নতুন এই পাইপলাইনটি চালু হলে, আমিরাত হরমুজ প্রণালী ব্যবহার না করেই বিশ্ব বাজারে এর দ্বিগুণ পরিমাণ তেল পাঠাতে সক্ষম হবে। ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায়, দেশটি এই বিকল্প পথটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের পূর্বে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিদিন প্রায় ৩৪ লক্ষ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত।
কিন্তু ইরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এবং এই জলপথে নিজস্ব নিয়ম জারি করার ফলে আমিরাতের তেল রপ্তানি প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস পায়। এই অতিরিক্ত পাইপলাইনটি নির্মিত হলে, সংযুক্ত আরব আমিরাত কার্যত যুদ্ধের পূর্বের ন্যায় তাদের সম্পূর্ণ তেল রপ্তানি সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে পারবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির লক্ষ্য আরও সুদূরপ্রসারী; ২০২৭ সালের মধ্যে তারা দৈনিক প্রায় ৫০ লক্ষ ব্যারেল তেল রপ্তানি করতে চায়। যুদ্ধের শুরুতে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানিতে বাধার সৃষ্টি করলেও, নিজেদের তেল রপ্তানি চালু রেখেছিল। তবে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর নৌ-অবরোধ আরোপ করার পর থেকে তেহরানের তেল রপ্তানি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে, চলতি মাসে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জ্বালানি জোট 'ওপেক' থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়। আবুধাবি জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে তারা তেল উৎপাদন ও রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করবে। তেল উৎপাদন ব্যবস্থাপনা নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।
রিয়াদ তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রাখার জন্য সরবরাহ সীমিত রাখতে চাইলেও, আমিরাত সবসময়ই উৎপাদন বাড়ানোর পক্ষে ছিল। এই সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দেশটি তাদের অবকাঠামো খাতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আমিরাতের এই পাইপলাইন অবকাঠামো এখনও ইরানি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। চলমান যুদ্ধের সময় হাবশানে পাইপলাইনের শুরুতেই একটি গ্যাস শোধনাগারে ইরানি ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। এমনকি ফুজাইরাহ বন্দরও হামলার শিকার হয়েছে, যার ফলে সেখানে কিছু সময়ের জন্য কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছিল। হরমুজের বিকল্প হিসেবে কেবল আরব আমিরাত নয়, সৌদি আরবও তাদের পাইপলাইন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশটি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে প্রতিদিন ৫০ লক্ষ ব্যারেল তেল রপ্তানি করতে সক্ষম।।
কিউবার প্রাক্তন নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে অভিযোগের তোড়জোড়