Published : 17 May 2026, 01:08 AM
আরব আমিরাত ২০২৭ সালের মধ্যে একটি নতুন পাইপলাইন চালু করার মাধ্যমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল রপ্তানি ক্ষমতা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (অ্যাডনক) শুক্রবার (১৫ মে) জানিয়েছে, ওমান উপসাগরের ফুজাইরাহ বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত এই পাইপলাইনের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে চলছে। আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই প্রকল্পের ঘোষণা দেন। অ্যাডনক জানিয়েছে, কাজ শুরু হয়ে গেছে। বর্তমানে আমিরাতের হাবশান-ফুজাইরা পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক ১৮ লক্ষ ব্যারেল তেল রপ্তানি করা হয়। নতুন প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে, হরমুজ প্রণালী ব্যবহার না করেই আমিরাত বিশ্ববাজারে এর দ্বিগুণ তেল পাঠাতে পারবে। ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে, তাই এই বিকল্প পথটি দেশটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিদিন প্রায় ৩৪ লক্ষ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত।
কিন্তু ইরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এবং নিজস্ব নিয়ম আরোপ করার ফলে আমিরাতের তেল রপ্তানি প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস পায়। এই অতিরিক্ত পাইপলাইনটি নির্মিত হলে, সংযুক্ত আরব আমিরাত কার্যত যুদ্ধের আগের পুরো সক্ষমতা অনুযায়ী তেল রপ্তানি করতে পারবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির লক্ষ্য আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী; ২০২৭ সালের মধ্যে তারা দৈনিক প্রায় ৫০ লক্ষ ব্যারেল তেল রপ্তানি করতে চায়। যুদ্ধের শুরুতে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানিতে বাধা দিলেও, নিজেদের রপ্তানি চালু রেখেছিল। তবে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করার পর থেকে তেহরানের তেল রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে, এই মাসে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জ্বালানি জোট 'ওপেক' থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়। আবুধাবি জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে তারা উৎপাদন ও রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করবে। তেল উৎপাদন ব্যবস্থাপনা নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।
রিয়াদ তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ সীমিত রাখার পক্ষে, যেখানে আমিরাত সবসময়ই উৎপাদন বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করে। এই সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দেশটি তাদের অবকাঠামো খাতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আমিরাতের এই পাইপলাইন অবকাঠামো এখনও ইরানি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। যুদ্ধের সময় হাবশানে পাইপলাইনের শুরুতেই একটি গ্যাস শোধনাগারে ইরানি ড্রোন আঘাত হেনেছিল। এমনকি ফুজাইরাহ বন্দরও হামলার শিকার হয়েছে, যার ফলে সেখানে কিছু সময়ের জন্য কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছিল। হরমুজের বিকল্প হিসেবে কেবল আরব আমিরাত নয়, সৌদি আরবও তাদের পাইপলাইন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশটি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে প্রতিদিন ৫০ লক্ষ ব্যারেল তেল রপ্তানি করতে সক্ষম।।
কিউবার প্রাক্তন নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে অভিযোগের তোড়জোড়