Published : 17 May 2026, 02:15 AM
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, এতদিন এই রাজ্যে ক্ষমতাবানদের মর্জি মতো সবকিছু চলত। এখন থেকে বাংলায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। আর রাজ্যের সাধারণ মানুষ আগের তৃণমূল সরকারের মতো কোনো জুলুমের শিকার হবে না। এই রাজ্য অত্যাচারমুক্ত হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শনিবার প্রথম জনসভায় যোগ দিয়ে তিনি একথা বলেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের ফলটায় এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ডায়মন্ড হারবারে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নেন তিনি। দুটি অনুষ্ঠানেই শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেন। মূলত ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের প্রচারের জন্য শনিবার তিনি সেখানে যান। তিনি বলেন, ফলতার মানুষ ২০২১, ২০২৪ এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি।
এখানকার সব ভোট কেটেকুটে নিয়েছেন মমতার ভাইপো, সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক এক কুখ্যাত ইতিহাস তৈরি করেছেন। তাঁর অনুসারীদের দৌরাত্ম্যের কারণে এখানে ভোট শান্তিপূর্ণভাবে হতে পারেনি। অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ফলতা আসনের নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা দেয়। এই আসনে তৃণমূলের জাহাঙ্গীর খান, বিজেপির দেবাংশু পান্ডা, কংগ্রেসের আবদুর রাজ্জাক মোল্লা এবং সিপিএমের শম্ভুনাথ কুরমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২১ মে ফলতা আসনের ২৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে এবং ২৪ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এদিকে, শনিবার সকালে ডায়মন্ড হারবার যাওয়ার পথে কলকাতার নিউ টাউনে অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর বাসভবনে যান শুভেন্দু। সেখানে তিনি মিঠুন চক্রবর্তীকে শুভেচ্ছা জানান। শুভেন্দুকে দেখে আবেগাপ্লুত মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, শুভেন্দু এই রাজ্যের সেরা মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দুর চেয়ে ভালো মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য কেউ নেই।
অন্যদিকে, আর জি কর হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার মামলার বিচারের জন্য শনিবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল নতুন একটি দুই বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করেছেন। এই বেঞ্চের বিচারপতিরা হলেন শম্পা সরকার ও তীর্থঙ্কর ঘোষ। নির্বাচনী প্রচারের সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দিয়েছিলেন, আর জি কর হাসপাতালের নারী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মামলাটি আবার আদালতে উপস্থাপন করা হবে। নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ বারবার অভিযোগ করেছেন, তাঁর মেয়ের হত্যার বিচার ঠিকমতো হয়নি। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের এখনো পুলিশ শনাক্ত করতে পারেনি। রত্না দেবনাথ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে এই হত্যা মামলায় হাসপাতালের কর্মরত ‘সিভিক ভলান্টিয়ার’ সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নিহত নারী চিকিৎসক অভয়ার মা রত্না দেবনাথ সেই রায় মেনে নিতে পারেননি। তিনি এবার বিজেপির টিকিটে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি বিধানসভা আসনে জয়ী হয়েছেন।।
কিউবার প্রাক্তন নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে অভিযোগের তোড়জোড়