Published : 03 May 2026, 11:08 AM
“হে আল্লাহ, ওরা ডুবে যাচ্ছে! কেউ কি সাঁতার জানে না?” – বাঁশবাড়িয়া সৈকতে দাঁড়িয়ে থাকা এক পর্যটকের আর্তনাদ মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল। এর আগে তিনি দেখলেন, উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে দুই তরুণ হাবুডুবু খাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে ধরা পড়েছে সেই দৃশ্য।ঘটনাটি গত শুক্রবার বিকেলে বাঁশবাড়িয়া সৈকতের। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সাগরে গোসল করতে গিয়ে মেহরাজ হোসাইন (১৯) ও সাব্বির সাগর (১৯) নামের দুই কলেজছাত্র ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে যায়। স্থানীয় জেলেরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু চিকিৎসক মেহরাজকে মৃত ঘোষণা করেন। জানা যায়, দুজনেই চট্টগ্রামের এমইএস কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল।বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মেহরাজ ও সাব্বির সাগরে নামেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তখন সমুদ্রের ঢেউগুলো ছিল খুবই শক্তিশালী। ভাটার স্রোতে মেহরাজকে দ্রুত টেনে নিয়ে যাচ্ছিল।
প্রথমে উপকূল থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে তাকে দেখা যায়, আর সাব্বির ছিল প্রায় ১০ মিটার দূরে। একসময় মেহরাজ দৃষ্টির আড়ালে চলে যান।বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাটের কাছেই এই ঘটনা ঘটে। বিআইডব্লিউটিএর টোল কালেক্টর সাইফুল আহমেদ জানান, প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে বলেছেন, ভাটার টানে যখন মেহরাজ ডুবতে শুরু করেন, তখন সাব্বির তাকে বাঁচাতে চেষ্টা করেন। তবে কেউই ভালো সাঁতার জানতেন না। জেলেরা দ্রুত একটি লাইফবোট নিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।সাইফুল আহমেদ আরও বলেন, আহতদের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে মেহরাজকে মৃত ঘোষণা করা হয়। অন্যজন বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।পুলিশ জানায়, মেহরাজ হোসাইন চট্টগ্রাম শহরের ডাবলমুরিং থানার পূর্ব মাদারবাড়ির মোশারফ হোসেনের একমাত্র সন্তান। মেহরাজ ও সাব্বির একে অপরের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
সাব্বিরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে হোয়াটসঅ্যাপে জানান, তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।হাসপাতালে মেহরাজের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাসেল। তিনি জানান, মেহরাজের বাবা একজন ব্যবসায়ী এবং মেহরাজ ছিল তার একমাত্র সন্তান। তারা মূলত ভোলা জেলার বাসিন্দা, তবে দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে বসবাস করছেন।এর আগে, ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই একই সৈকতে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। নিহতরা ছিলেন দাওয়া বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের মোহাম্মদ আলী আহসান ও কোরআনিক সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের মো. এনায়েত উল্লাহ। এছাড়া, ২০১৮ সালের ২১ জুন ও ৬ জুলাই পৃথক দুর্ঘটনায় এই সৈকতে ডুবে পাঁচ তরুণের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে গত আট বছরে বাঁশবাড়িয়া সৈকতে আটজনের প্রাণহানি ঘটল।।
ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারে সাময়িক বিরতি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন অভিযানের মাঝে