Published : 25 Aug 2026, 02:17 PM
ইরানের বিরুদ্ধে 'অর্থনৈতিক আক্রমণ' আরও তীব্র করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং দেশগুলোর বিরুদ্ধে নতুন করে কঠিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই নতুন পদক্ষেপকে 'অর্থনৈতিক ডি-ডে' আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার শেষ সতর্কবার্তা। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি এই সতর্কতা উপেক্ষা করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে। বেসেন্ট আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে ইরানের আর্থিক যোগাযোগের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক হামলা চালানো হচ্ছে। এই হামলার লক্ষ্য হলো তেহরানকে একা করে দেওয়া এবং তার শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার সমস্ত অর্থনৈতিক পথ বন্ধ করে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে যে, ইরান যেসব নেটওয়ার্ক ও আর্থিক মাধ্যম তেল পাচার এবং অন্যান্য কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করে, সেগুলোর উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই 'অবৈধ আয়' বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান তার অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল এবং নৌপরিবহন—এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে কাজে লাগাচ্ছে। এই ক্ষেত্রগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ষাটটি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। চীন দীর্ঘদিন ধরে ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হলেও, কেনা-বেচা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে চীনা বৃহৎ ব্যাংকগুলো এখনো সরাসরি নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসেনি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার প্রায় ছয় মাস পার হয়েছে। বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষ এড়ানো সত্ত্বেও কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় হরমুজ প্রণালীতে তেল ও অন্যান্য পণ্যের পরিবহন এখনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া।
এই যুদ্ধ এবং উচ্চ জ্বালানি মূল্য ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ওপরও প্রভাব ফেলেছে। সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তার সরকারের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন। তবে ট্রাম্পের দাবি, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে ইরানকে বাধা দিতে এই অর্থনৈতিক চাপ অপরিহার্য। বহু দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল তেলের আয় কমানো এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ সীমিত করা। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অধীনে থাকা ব্যবসার অর্থের প্রবাহও বন্ধ করার চেষ্টা করেছে ওয়াশিংটন। যদিও ইরান নতুন ভুয়া কোম্পানি ও জাহাজ নিবন্ধন করে এই নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পথ তৈরি করেছে।।