Published : 26 Aug 2026, 12:16 AM
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) প্রধান জন র্যাটক্লিফ কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই মস্কো সফর করেছেন। এই আকস্মিক ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং তিনি কার সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়েছেন, তা নিয়ে ওয়াশিংটন বা মস্কো কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন সরাসরি বৈঠক অত্যন্ত বিরল। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বিমানটি লাটভিয়া হয়ে রাশিয়াতে প্রবেশ করে এবং মঙ্গলবারই মস্কো ত্যাগ করে। এই ঘটনা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। খবর নিশ্চিত করতে বিবিসি নিউজ সিআইএ, হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, একটি সি-১৭ পরিবহন বিমান মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ফ্লাইট রাডার২৪ অনুসারে, বিমানটি গ্রিনিচ মান সময় ০৫:৫০ মিনিটে রিগা বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে এবং আনুমানিক ০৭:০৪ মিনিটে রাশিয়ার রাজধানীতে পৌঁছায়। এরপর গ্রিনিচ মান সময় ১৬:০০টার কিছুক্ষণ আগে বিমানটি মস্কো ছেড়ে চলে যায়। আরও কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, মস্কোর অভ্যন্তরে একটি কূটনৈতিক গাড়ি বা দল চলাচল করছে বলে দাবি করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সিআইএ পরিচালক হিসেবে এটিই র্যাটক্লিফের রাশিয়ায় প্রথম সফর। যদিও তিনি মস্কোর গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আগে থেকেই যোগাযোগ রাখতেন। প্রসঙ্গত, ইউক্রেনকে সহায়তার অভিযোগে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার কারাগারে থাকা রুশ-মার্কিন নাগরিক সেনিয়া কারেলিনার মুক্তির আলোচনায় র্যাটক্লিফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়াও, ২০২৪ সালে রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে হওয়া বন্দি বিনিময়ের চুক্তিতে সিআইএ জড়িত ছিল, যেখানে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক ইভান গার্শকোভিচ, সাবেক মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্য পল হুইলান এবং রুশ-মার্কিন সাংবাদিক আলসু কুরমাশেভা মুক্তি পান।
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্ক তীব্র টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। এই সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়া বহু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সময় রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পর্যালোচনা করা মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে র্যাটক্লিফ সম্ভবত সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। গত বছর আলাস্কায় অনুষ্ঠিত একটি শীর্ষ সম্মেলনে পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনা থেকে তেমন কোনো বড় অগ্রগতি আসেনি। পরবর্তীতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন শান্তি প্রক্রিয়াও স্থবির হয়ে পড়েছে।।
ইরানের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আঘাত: ডলারভিত্তিক লেনদেন থেকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের