Published : 26 Aug 2026, 12:16 PM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার বিশ্বজুড়ে ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র মঙ্গলবার ঘোষণা করেন যে বিশ্বের সমস্ত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভিসা সংক্রান্ত সেবার সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। ট্রাম্প সরকার এমন এক আগ্রাসী বহিষ্কার অভিযান এবং কঠোর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নীতি অনুসরণ করছে, যার অধীনে ভিসা বাতিল করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ এবং গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বা ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করা। ট্রাম্পের দাবি, এই কঠোর অভিযান দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে এই অভিবাসনবিরোধী কর্মকাণ্ড বেশ কিছু আইনি প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছে।
শুক্রবার এক মার্কিন বিচারক ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নীতি বাতিল করে রায় দেন। তিনি মন্তব্য করেন যে এই ধরনের নীতি গ্রহণের মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের নির্দিষ্ট সময়সীমা বা বিষয়বস্তু সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে তারা নিশ্চিত করেছে যে এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো এমন আবেদনকারীদের চিহ্নিত করা, যারা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুযোগ-সুবিধাগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করা হয়। একই সাথে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভিসা আবেদনকারীদের 'সমগ্রভাবে এবং একই ধরনের মানদণ্ডে' মূল্যায়ন নিশ্চিত করাও উদ্দেশ্য। পূর্বে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচি স্থগিত বা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি জানানো হয়েছে। মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের তারিখ থাকা ভিসা আবেদনকারীরা ই-মেইল পেয়েছেন, যেখানে জানানো হয়েছে যে তাদের সাক্ষাৎকারের সময় পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং নতুন তারিখ পরে জানানো হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অভিবাসন নীতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
তাদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপগুলি বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে এই কঠোর অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, বিশেষত জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে এই গোষ্ঠীগুলো সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত বা হয়রানির শিকার হতে পারে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তার প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকেও আরও কঠিন করে তুলেছে। এর একটি উদাহরণ হলো, নির্দিষ্ট কিছু কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদনকারীদের ওপর নতুন ও ব্যয়বহুল ফি আরোপ করা।।