Published : 31 Jul 2026, 08:17 PM
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জোর দিয়ে বলেছেন যে, বাংলাদেশে ধর্মকে হাতিয়ার করে কোনো প্রকার বিভাজন সৃষ্টি করার অবকাশ নেই। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই দেশ সকল ধর্মের মানুষের জন্য সমান অধিকার ও মর্যাদার ভূমি। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেওয়া চলবে না, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদের আয়োজিত 'সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান' শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, "হাজার বছরের এই ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে আসছে। তাই ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করার কোনো পথ খোলা নেই। আমি কখনোই আপনাদের সংখ্যালঘু মনে করি না; আপনারা এই দেশের সন্তান এবং নাগরিক।" তিনি আরও যোগ করেন যে, মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল সকলের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম।
সেই ঐতিহাসিক চেতনা ধারণ করেই একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত ধর্মীয় পরিচয় নয়, বরং নাগরিক পরিচয়। তিনি অভিযোগ করেন যে, কিছু মহল ধর্মের নামে দেশের সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই ধরনের উগ্রবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "বাংলাদেশে উগ্রবাদ বা মৌলবাদের কোনো স্থান নেই। আমরা একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই।" সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সকল ধর্মাবলম্বীর জীবন, সম্পত্তি এবং উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। দুর্গাপূজা, রথযাত্রা সহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা প্রদান করেছে, যাতে কোনো দুর্বৃত্ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে। সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতি তিনি বলেন, নিজেদের সমস্যা ও দাবিগুলো সংগঠিতভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরতে হবে।
সরকার আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে যৌক্তিক দাবিগুলোর ইতিবাচক সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবে। মির্জা ফখরুল উপসংহারে বলেন, "বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে হবে। একই সাথে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগের ইতিহাস স্মরণ রাখতে হবে। ধর্মভিত্তিক বিভাজন নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সমঅধিকারের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।" এই অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উদ্বোধন করেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।।
থ্যালাসেমিয়া ও জন্মগত বিরল রোগের ডেটাবেজ তৈরির জরুরি ডাক দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান