Published : 31 Jul 2026, 12:17 PM
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) প্রশাসন যৌন হয়রানির অভিযোগে এক অধ্যাপককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে। একই সময়ে, অন্য একটি গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা বিভাগের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে পাঁচ সদস্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস. এম. মাহবুবুর রহমান। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত যৌন হয়রানি নিরোধকেন্দ্রের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রুবেল আনসারের বিরুদ্ধে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই কমিটি যৌন হয়রানি কেন্দ্র থেকে আলাদাভাবে গঠিত এবং তাদের ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
উৎস অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৮ জুন এগ্রোটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে এক ছাত্রীকে আপত্তিকর বার্তা ও প্রস্তাব পাঠানোর অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের পর তাঁকে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং তাঁকে তদন্তের আওতায় আনা হয়। তদন্ত পর্যালোচনা শেষে সিন্ডিকেট তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রুবেল আনসারের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। প্রাথমিক তদন্তে একটি অভিযোগ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও, অন্য অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে দুই বছরের জন্য পাঠদান, পরীক্ষা এবং সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়। এই তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
এর আগে শিক্ষক ও ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস, পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পরেও যখন প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি, তখন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনগুলিতে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের সঙ্গে আরও আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশের পর ভবনগুলির তালা খুলে দেওয়া হয়। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস বা পরীক্ষায় ফিরবে না। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অভিযুক্ত ক্যান্টিনকর্মীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, দায়িত্বে অবহেলার জন্য সংশ্লিষ্ট হলের প্রশাসনের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ছাত্রসংগঠনের নিবন্ধন বাতিল করা।।
থ্যালাসেমিয়া ও জন্মগত বিরল রোগের ডেটাবেজ তৈরির জরুরি ডাক দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান