Published : 31 May 2026, 11:42 AM
চার দশকেরও বেশি সময় একসঙ্গে পথচলার পর অনুপম খের আজও বিস্মিত হন তাঁর এবং কিরণ খেরের সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে। একসময়ের কলেজের সিনিয়র মানুষটিই যে তাঁর জীবনের সঙ্গী হবেন, তা তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি। সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় অনুপম খের বললেন, “এজন্যই আমি বলি, জীবনে সবকিছু সম্ভব। তখন আমার কল্পনারও বাইরে ছিল যে আমরা একে অপরের প্রেমে পড়ব, বিয়ে করব।” আজ তাঁদের দাম্পত্য জীবনের ৪১ বছর পূর্তি। এই দীর্ঘ পথচলায় প্রেমের চেয়েও বেশি প্রাধান্য পেয়েছে বন্ধুত্ব, শ্রদ্ধা আর একে অপরের প্রতি সহানুভূতি। চণ্ডীগড়ের থিয়েটার বিভাগে প্রথম তাঁদের দেখা। কিরণ তখন অনুপমের থেকে এক বছর এগিয়ে ছিলেন। পুরো কলেজে তাঁর পরিচিতি ছিল, ইংরেজি নাটকে অভিনয় করতেন, বোনের সাথে ভারতের হয়ে ব্যাডমিন্টনও খেলতেন। সেই সময়ের কথা মনে করে অনুপম বলেন, “তিনি ছিলেন যেন এক উজ্জ্বল তারা। আমি কখনো ভাবিনি তাঁর সাথে আমার জীবনের কোনো সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। তবে তাঁর মনটা ছিল বিশাল।” পরে দুজনেই মুম্বাইয়ে আসেন।
তখন কিরণ খেরের বিয়ে হয়েছিল ব্যবসায়ী গৌতম বেরির সাথে। আর অনুপম তখন বলিউডে নিজের জায়গা করে নেওয়ার জন্য সংগ্রাম করছিলেন। সেই কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অভিনেতা বলেন, বন্ধু সতীশ কৌশিকের সাথে প্রায়ই কিরণের বাড়িতে যেতেন। মজার ছলে তাঁরা বলতেন, ‘আপনার বাড়িতে আসব, তবে ফেরার ট্যাক্সি ভাড়া তো দিতে হবে!’ অনুপমের ভাষায়, “আমরা তাঁর কাছ থেকে ট্যাক্সি ভাড়া নিতাম, কিন্তু পরে বাসে করে ফিরতাম, যাতে পুরো সপ্তাহটা চালানো যায়।” বন্ধুত্ব থেকে প্রেমে রূপান্তর হতে সময় লেগেছিল। দুজনেই তখন ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। অনুপম একদিকে সম্পর্ক ভাঙার কষ্ট পাচ্ছিলেন, অন্যদিকে কিরণও তাঁর বৈবাহিক জীবনে সমস্যার সম্মুখীন ছিলেন। সেই দুর্বল মুহূর্তে তাঁদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। ১৯৮৫ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। কিরণের প্রথম সংসারের ছেলে কিকান্দার খেরকেও নিজের সন্তানের মতোই বড় করেছেন অনুপম খের। এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে অনুপম বলেছিলেন, দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন টিকিয়ে রাখার আসল শক্তি শুধু প্রেম নয়। তাঁর মতে, “৪০ বছরের বিবাহিত জীবনে সবসময় শুধু ভালোবাসা দিয়ে চলা যায় না। হতাশা আসে, মনোমালিন্যও হয়।
কিন্তু সবচেয়ে জরুরি হলো একে অপরের প্রতি সম্মান।” আরও পড়ুনসিনেমাতেই মহেশ ভাটকে ২৫ হাজার রুপি দিয়েছিলেন অনুপম খের২৬ মার্চ ২০২৬ অনুপম খের আরও বলেন, তাঁদের সংসারে কখনো ‘নায়ক-নায়িকা’র মতো দূরত্ব ছিল না। “আমরা একে অপরের সমান। আমাদের বাড়িতে কোনো ফিল্মি পরিবেশ নেই,” তিনি বলেন। সাক্ষাৎকারে মজার ছলে অনুপম জানান, ৪১ বছরের দাম্পত্য জীবনেও কিরণ তাঁর জন্য এক কাপ চা পর্যন্ত বানাননি। কারণ, কিরণ রান্না করতে পারেন না। সম্প্রতি অন্য একটি সাক্ষাৎকারে অনুপম খের স্বীকার করেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে মাঝে মাঝে তাঁর মনে হয়, যদি তাঁদের নিজেদের একটি সন্তান থাকত, তাহলে সেটিও হয়তো সুন্দর একটা অভিজ্ঞতা হতো। তবে তিনি এটিকে জীবনের অপূর্ণতা হিসেবে দেখেন না। এত বছরের সম্পর্কের সারমর্ম কী? অনুপমের উত্তর, “অবিশ্বাস্য সহানুভূতি, পারস্পরিক সম্মান, দয়া আর বন্ধুত্ব। শেষ পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”।
কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিত্র পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী