Published : 11 Feb 2026, 09:05 AM
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তিনির্ভর মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা বাড়ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। প্রকাশ্যে সহিংসতা বা হুমকির চেয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচার অনেক বেশি ক্ষতিকর, কারণ এটি নীরবে মানুষের মন ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। ২০২৩ সালে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই প্রথম নির্বাচন, তাই জনগণের প্রত্যাশা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো ভুল তথ্য ভোটের পরিবেশকে বিষাক্ত করে তুলছে। ডয়েচে ভেলে বাংলার এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা অপপ্রচারের একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে তৈরি করা ছবি ও ভিডিও এতটাই নিখুঁত যে সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল-নকল চেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে অস্তিত্বহীন মানুষের রাজনৈতিক বক্তব্য, জোরপূর্বক ভোট দেওয়ার অভিযোগ, এবং আবেগপ্রবণ আবেদন।
এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যগুলো সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, প্রায়শই কোনো রকম যাচাই ছাড়াই। নির্বাচনকে প্রভাবিত করার এই অপচেষ্টা রুখতে বিশেষ ইউনিট গঠন, সামাজিক মাধ্যমগুলোর সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তবে প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং অপপ্রচারকারীদের সুসংগঠিত কার্যকলাপের তুলনায় এই পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু সরকার বা নির্বাচন কমিশনের ওপর দায়িত্ব চাপানো যথেষ্ট নয়। রাজনৈতিক দল, সামাজিক মাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যম—সবারই সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সবচেয়ে জরুরি হলো নাগরিকদের তথ্য যাচাই করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু ডিজিটাল জ্ঞান এখনো কাঙ্ক্ষিত স্তরে পৌঁছায়নি।
অপপ্রচারকারীরা এই দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে। নির্বাচন শুধু ব্যালট বাক্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি বিশ্বাস ও আস্থার বিষয়। মিথ্যা তথ্যের বিস্তার এই বিশ্বাসকে নষ্ট করে দিতে পারে, যার ফলশ্রুতিতে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়বে। আমাদের গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে প্রযুক্তির এই অসম যুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। নির্বাচন কমিশন, অন্তর্বর্তী সরকার, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং নাগরিকদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।।