Published : 14 Feb 2026, 09:06 AM
রাজধানী ঢাকার মানুষের জীবনযাত্রায় শব্দদূষণ এক তীব্র হুমকিতে পরিণত হয়েছে। রাস্তায় বেপরোয়া হর্ন বাজানো যেন দৈনন্দিন চিত্র। সম্প্রতি, প্রথম আলোর খবরে প্রকাশ, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আদালত, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকার ১০০ মিটারের মধ্যে ‘নীরব অঞ্চল’ ঘোষণা করেছে। এই অঞ্চলে হর্ন বাজানো এখন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, যার শাস্তি হতে পারে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা তিন মাসের কারাদণ্ড। দেরিতে হলেও এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে নাগরিক জীবনের গুণগত মানোন্নয়নে সহায়ক। নীরব অঞ্চল চিহ্নিতকরণ শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষারও অংশ। অতিরিক্ত শব্দ মানুষের মানসিক চাপ বাড়ায়, উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং হৃদরোগের কারণ হতে পারে। হাসপাতালের সামনে হর্নের তীব্র শব্দ অসুস্থ রোগীদের জন্য শুধু বিরক্তির কারণ নয়, শারীরিক কষ্টের কারণও হতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করে, শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে।
নতুন বিধানে ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যা যথেষ্ট কঠোর বলেই মনে হয়। তবে বাংলাদেশে আইনের অভাব নয়, বরং ধারাবাহিক বাস্তবায়নের অভাব রয়েছে। প্রায়শই দেখা যায়, বিশেষ অভিযান বা দিবসের পর কঠোরতা কমে যায়। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও যদি এমনটা হয়, তবে এই সিদ্ধান্ত শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ধারাবাহিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং চালকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। জনসচেতনতা এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু জরিমানা ও শাস্তির ভয় দেখিয়ে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার সময় শব্দদূষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
গণপরিবহনের চালকদের জন্য বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা জরুরি। শব্দ নিয়ন্ত্রণ নাগরিক জীবনযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি। একটি আধুনিক শহর শুধু উঁচু ভবন বা প্রশস্ত রাস্তা দিয়ে তৈরি হয় না, বরং এর নীরবতা ও শৃঙ্খলাও শহরের মান নির্ধারণ করে। ডিএমপি-র এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে এই সাধুবাদ যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। কার্যকর প্রয়োগ, নিয়মিত তদারকি ও নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই উদ্যোগকে সফল করতে হবে। অন্যথায়, ঘোষণার কালি শুকানোর আগেই এর গুরুত্ব হারিয়ে যাবে, আর ঢাকার আকাশে হর্নের কর্কশ ধ্বনি আগের মতোই প্রতিধ্বনিত হতে থাকবে।।