Published : 01 Feb 2026, 09:06 AM
বাংলাদেশে সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে সিজারিয়ান সেকশনের হার বাড়ছে, যা এখন জাতীয় উদ্বেগের কারণ। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত বছর প্রায় ১৭ লক্ষ শিশুর জন্ম হয়েছে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে। যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, স্বাভাবিক প্রসবের হার বেশি হওয়া উচিত, সেখানে বাংলাদেশে প্রায় অর্ধেক শিশু সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্ম নিচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে এই হার আরও বেশি—প্রায় ৯০ শতাংশ। এর অর্থ হলো, চিকিৎসাসেবা এখন মানুষের সেবার চেয়ে ব্যবসায়িক লাভের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে চিকিৎসকদের সময়ের অভাব, হাসপাতাল মালিকদের লোভ, এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা। স্বাভাবিক প্রসব একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, যার জন্য ধৈর্য ও মনোযোগ দরকার।
কিন্তু অনেক চিকিৎসক এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই সময় দিতে রাজি নন। তাঁরা সিজারিয়ানকে সহজ ও দ্রুত সমাধান হিসেবে দেখাচ্ছেন। এমনকি, স্বাভাবিক প্রসবকে কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিত্রিত করে গর্ভবতী মা ও তাঁদের পরিবারের মনে ভয় সৃষ্টি করছেন। অথচ, অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায় এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, বছরে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের পেছনে খরচ হচ্ছে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য বড় বোঝা। অনেক বেসরকারি মাতৃসেবা কেন্দ্র পর্যাপ্ত নজরদারি ছাড়াই চলছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও সুযোগ-সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও তাঁরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছে।
সরকারি নীতিনির্ধারকরাও স্বীকার করছেন, এই খাতে সরকারি নজরদারির অভাব রয়েছে। শুধু সচেতনতা নয়, প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর ওপর সরকারি তদারকি বাড়াতে হবে। একই সাথে দক্ষ ধাত্রীসেবার প্রশিক্ষণ এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাভাবিক প্রসবের পরিবেশ উন্নত করতে হবে। যদি বাণিজ্যিক কারণে স্বাভাবিক প্রসবের প্রক্রিয়াকে বাধা দেওয়া হয়, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে হাসপাতালে প্রায় সব শিশুই সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্ম নেবে—এমন আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যকে এই ব্যবসায়িক চক্র থেকে মুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।।