Published : 09 Feb 2026, 09:06 AM
নদী-নালা আর সাগরের মাঝে ঘেরা কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার করিয়ারদিয়া দ্বীপ যেন এক বিস্মৃত জনপদ। রাষ্ট্রের উদাসীনতার করুণ প্রতিচ্ছবি এখানে। প্রায় আড়াই হাজার মানুষ বাস করে, কিন্তু ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা, মাধ্যমিক শিক্ষা কিংবা নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগটুকুও নেই। নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের দেখা মেলে না, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও পৌঁছায় না এই দ্বীপে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন গণতন্ত্রের পীঠস্থান, যেখানে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে। কিন্তু করিয়ারদিয়ার মানুষের সাথে সেই সংযোগ ছিঁড়ে গেছে। প্রার্থীদের ব্যানার হয়তো দেখা যায়, তবে তারা সরেজমিনে এসে মানুষের কথা শোনেন না। এটা শুধু অবহেলা নয়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার এক নিষ্ঠুর বাস্তবতা। নাগরিক হয়েও তারা যেন রাষ্ট্রের অংশ নয়—এই অনুভূতি দ্বীপবাসীর মনে ক্রমশ বাড়ছে। করিয়ারদিয়ার প্রধান সমস্যা যোগাযোগ ব্যবস্থা।
একটি সেতু তৈরি হলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি—সবকিছুতেই উন্নয়নের সুবাতাস বইবে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এই মৌলিক দাবিটি উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। সরকারি প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রভাবশালী মহল সবাই সমস্যার কথা জানেন, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না। এটা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনেও অবহেলা। শিক্ষার হালও শোচনীয়। একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পরিত্যক্ত ভবনে চলছে, যা শিশুদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাষ্ট্রের উদাসীনতা লজ্জাজনক। স্বাস্থ্যসেবার চিত্র আরও ভয়াবহ। সামান্য প্যারাসিটামলের জন্য নৌকায় করে মূল ভূখণ্ডে যেতে হয়, যা দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় অঞ্চলে জীবনঝুঁকির সমান। এই সংকটের দায় শুধু নির্বাচনী প্রার্থীদের নয়।
স্থানীয় সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, উন্নয়ন সংস্থা এবং রাজনৈতিক দল—সবারই দায়িত্ব রয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোরও এখানে তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায় না, যা তাদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নিয়ে করা заявлений সাথে সাংঘর্ষিক। করিয়ারদিয়ার সমস্যার সমাধান করা কঠিন নয়। জরুরি ভিত্তিতে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিতে হবে। পাশাপাশি, একটি আধুনিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা প্রয়োজন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ এবং ধীরে ধীরে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে হবে। দ্বীপের উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আওতায় অগ্রাধিকার দিতে হবে। যদি রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা এখনই করিয়ারদিয়ার দিকে মনোযোগ না দেন, তবে তা শুধু একটি দ্বীপের নয়, বরং পুরো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নৈতিক bankruptcy-কে উন্মোচিত করবে। অবহেলার এই দীর্ঘ অধ্যায় শেষ করে দ্রুত এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।।