Published : 17 Feb 2026, 09:07 AM
রহমত ও সংযমের বার্তা নিয়ে পবিত্র রমজান দরজায় কড়া নাড়ছে। প্রতি বছর এই সময় সাধারণ মানুষের মনে একটাই জিজ্ঞাসা – বাজার পরিস্থিতি কেমন থাকবে? এবারও সেই একই উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। তবে গত বছর সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ, আমদানি প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং কঠোর বাজার নজরদারির কারণে রমজানের বাজার ছিল বেশ স্থিতিশীল। এবারও পর্যাপ্ত পরিমাণে পণ্য আমদানি ও মজুত রয়েছে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু বিঘ্ন এবং খুচরা বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি নতুন করে শঙ্কা তৈরি করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় ভোজ্য তেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল এবং গমের আমদানি বেড়েছে। আমদানিকারকরাও জানাচ্ছেন, উৎপাদন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে প্রশ্ন হলো, এই ‘আশাব্যঞ্জক’ পরিসংখ্যান কি সাধারণ ক্রেতার পকেটে কোনো স্বস্তি নিয়ে আসবে? বাস্তবতা হলো, রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে গেলেই সেই চেনা চিত্র – দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। লেবুর দাম হালি প্রতি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে, খেজুরের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে, এমনকি গরুর মাংস ও মুরগির দামও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে নির্বাচন-পরবর্তী পরিবহন সমস্যা ও শ্রমিক সংকট দেখাচ্ছেন। এটা ঠিক যে নির্বাচনের কারণে কয়েক দিন পণ্য সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। কিন্তু এই সুযোগে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা যেভাবে দাম বাড়িয়েছেন, তা শুধু ‘সরবরাহ সংকট’ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। গবেষণা সংস্থা সিপিডি এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন কারখানা থেকে দ্রুত পণ্য বাজারজাত করার দিকে নজর রাখতে হবে। রমজান শুরুর আগেই বন্দর ও শিল্পাঞ্চল থেকে সারা দেশে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক করতে না পারলে, অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রমজানের শুরুতেই বাজার অস্থিতিশীল করে তুলবে। পাশাপাশি, সরকারের তদারকি সংস্থাগুলোর ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু আমদানির পরিসংখ্যান দেখে চুপ করে বসে থাকলে চলবে না। টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহ বাড়ানো যেমন দরকার, তেমনই খুচরা বাজারে কেন পণ্যের দাম বাড়ছে, তারও কঠোর তদারকি করতে হবে। বিশেষ করে লেবু, কাঁচামরিচ, বেগুন – এই ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচাপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় বাজারগুলোতে নজরদারি জোরদার করা উচিত। নবনির্বাচিত সরকার শপথ নেওয়ার এক-দুই দিনের মধ্যেই রমজান মাস শুরু হবে। তাই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ নতুন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা আশা করি, সরকার শুরু থেকেই অসাধু সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে মনোযোগ দেবে। পণ্য তো পর্যাপ্ত আছে, এখন প্রয়োজন কেবল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও কঠোর নজরদারি।।
মার্কিন-ইরান সমঝোতা চুক্তি কি আগামীকাল হবে না? ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য