Published : 07 Jun 2026, 11:02 PM
জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং লোডশেডিং সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন যে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ দীর্ঘ সময় পাওয়া যায় না, আবার কেউ কেউ নিয়মিত বিভ্রাটের কথা তুলে ধরেছেন। এই প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ স্পষ্ট করেছেন যে বর্তমানে দেশের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। তবে ঝড়বৃষ্টি, গাছ পড়ে বিদ্যুৎ লাইন ছেঁড়া বা বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে মাঝে মাঝে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিতে পারে। আজ রোববার সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গোলাম রছুল (যশোর–৪ আসন) সম্পূরক প্রশ্নে জানান যে তাঁর নির্বাচনী এলাকার গ্রামীণ অঞ্চলে প্রায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা লোডশেডিং হয় এবং নোয়াপাড়া শিল্প এলাকাতেও বিদ্যুতের অভাব অনুভূত হয়। বিদ্যুৎমন্ত্রী এই বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতি না থাকলেও সরবরাহ ব্যাহত হলে লোডশেডিং ঘটে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা গাছ পড়ার মতো পরিস্থিতিতে যে মেরামত কাজ করতে সময় লাগে, সেই সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। মেরামত শেষ হলেই বিদ্যুৎ ফিরে আসে। এই প্রেক্ষাপটে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা 'লোডশেডিং' না বলে 'মেরামতশেডিং' শব্দটি ব্যবহার করে বলেন, গ্রামীণ এলাকায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না পাওয়া একটি বাস্তব চিত্র। এছাড়াও, জ্বালানিমন্ত্রী কর্তৃক আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহের প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে, তিনি জানান যে গ্যাসের সংকট থাকায় বিদ্যুৎ প্ল্যান্টগুলো চালু রাখার জন্য গ্যাস সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে গ্যাস পরিস্থিতি উন্নত হলে আশুগঞ্জসহ অন্যান্য সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। গত সতেরো বছরে গ্যাস অনুসন্ধানের (ড্রিলিং) কাজ শুরু হলেও তা এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।
বিএনপির সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে দৈনিক সর্বোচ্চ ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। চাহিদা অনুযায়ী ঘাটতি না থাকলেও গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় প্রাথমিক জ্বালানি ও অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহ সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম জানান যে এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ ছিল এবং বিদ্যুৎ বিভাগ লোডশেডিং সামাল দিতে পারছে না। তিনি ট্রান্সফরমার চুরির মতো অন্যান্য সমস্যা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এই বিষয়ে পদক্ষেপের দাবি জানান। বিদ্যুৎমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে পল্লী বিদ্যুতের বিস্তৃত নেটওয়ার্কে ট্রান্সফরমার চুরি রোধ করা কঠিন, এবং এর সমাধানে জনগণেরও সচেষ্ট হতে হবে।।