Published : 11 Mar 2026, 03:08 AM
রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তির বাসিন্দা আকলিমা বেগম গতকাল মঙ্গলবার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ হাতে পেয়েছেন। ৪০ বছর বয়সী এই গৃহিণীর স্বামী মোহাম্মদ খলিল একজন দিনমজুর। তাঁদের তিন সন্তানের মধ্যে দুইজনকে তিনি বিয়ে দিয়েছেন। একমাত্র ৯ বছর বয়সী মার্জিয়াকে নিয়ে তাঁদের সংসার। বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে এই কার্ড গ্রহণ করেন আকলিমা। গতকাল দুপুরে বস্তিতে কথা বলার সময় তিনি জানান, এই কার্ড তাঁর সংসারের জন্য এক নতুন আশা। প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা হিসেবে পেলে একদিকে যেমন সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালানো যাবে, তেমনই দৈনন্দিন জীবনের অন্যান্য প্রয়োজনও মেটানো সম্ভব হবে। আকলিমা বলেন, “কার্ডটা হাতে পেয়ে আমি সত্যিই খুব খুশি। স্বপ্নেও ভাবিনি এভাবে সরকারি সাহায্য পাব। প্রথমে সরকারি লোকজন আমাদের বাড়িতে এসে তথ্য নেন, তারপর এই কার্ডের জন্য নাম চূড়ান্ত করেন।” কড়াইল বস্তির বাসনাও গতকাল ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। তাঁর স্বামী বিল্লাল একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান।
বাসনার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলেটি দশম শ্রেণিতে এবং মেয়েটি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। সংসার চালাতে কষ্ট হলেও তিনি সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ করতে চান না। ফ্যামিলি কার্ড তাঁর সংসারে এক নতুন ভরসা নিয়ে এসেছে বলে জানান তিনি। বাসনা বলেন, “আমি খুব আনন্দিত। যদি প্রতি মাসে এই টাকা পাই, তাহলে ছেলেমেয়েদের খাতা, কলম, বই কিনে দিতে পারব। পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজনেও কাজে লাগবে।” ২০০৪ সালে নেত্রকোনা থেকে একা ঢাকায় এসেছিলেন বাসনা। প্রথমে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ নেন। পরে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। তিন বছর আগে চাকরি চলে যাওয়ায় এখন সংসার সামলাচ্ছেন। গতকালকের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে ১৭ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে বনানীর কড়াইল বস্তির ৪ জন, মিরপুরের ভাষানটেকের ৫ জন এবং মহাখালীর সাততলা বস্তির ৮ জন ছিলেন।
কড়াইল বস্তির বউবাজারের বাক্প্রতিবন্ধী নারী সমলাও ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। গতকাল দুপুরে বস্তিতে দেখা হলে, কার্ডটি পেয়ে তিনি কতটা খুশি, তা তাঁর মুখের হাসি দেখেই বোঝা যায়। তাঁর স্বামী মোহাম্মদ সাইফুল একটি বেসরকারি ব্যাংকে অফিস সহকারীর কাজ করেন। সাইফুল জানান, কার্ড থেকে পাওয়া কিছু টাকা জমিয়ে তাঁরা ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। দম্পতির দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তাঁদের বড় ছেলে একটি আসবাব তৈরির দোকানে কাজ শেখে, বড় মেয়ে মাদ্রাসায় পড়ে, এবং ছোট মেয়েটি এখনো স্কুলে যাওয়া শুরু করেনি। মিরপুরের ভাষানটেকের ১ নম্বর বস্তির বাসিন্দা হোসনা আক্তারও গতকাল ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। কার্ড নেওয়ার পর তিনি দ্রুত বস্তিতে ফিরে যাচ্ছিলেন। ব্যস্ততার মাঝেও তিনি জানান, এই কার্ড তাঁর সংসারের জন্য অনেক উপকার বয়ে আনবে।।
বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল, কিন্তু প্রাকৃতিক কারণে মাঝে মাঝে বিভ্রাট অনিবার্য