Published : 24 Aug 2026, 04:17 AM
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, একবার যারা অন্যায়ের পথ থেকে পালিয়ে যায়, তারা আর কখনো ফিরে আসতে পারে না। তিনি বলেন, 'ইতিহাস সাক্ষী, অপকর্মের দায়ভার নিয়ে পালিয়ে যাওয়া মানুষের কোনো প্রত্যাবর্তন থাকে না।' রবিবার (২৩ আগস্ট) রাজধানীতে সীরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত 'রাষ্ট্র সংস্কারে রাসূল (সা.) এর নীতি ও আদর্শ' শীর্ষক সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গভীর বার্তা প্রদান করেন। তিনি আরও বলেন, 'যে শাসকগণ ক্ষমতার অপব্যবহার করে পালিয়েছেন, তারা নিজেদের পালানোর আগে সকল আত্মীয়-স্বজনদেরও সুযোগ করে দিয়েছেন। এমনকি তাদের পালানোর সময় জাতীয় মসজিদের খতিব পর্যন্ত তারা আশ্রয় নিয়েছিলেন।' শফিকুর রহমান ফ্যাসিবাদকে একটি সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, 'ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের সম্পত্তি নয়; এটি এমন এক রোগ যা প্রবেশ করলে ব্যক্তি নিজেই ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠে।' তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'ফ্যাসিবাদের পথে বাংলাদেশের মানুষ আর কাউকে চলতে দেবে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা নিরেটভাবে মরে যায়নি।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী এই জনতা বারবার গর্জে উঠবে। যতক্ষণ না ন্যায় ও ইনসাফের প্রতিষ্ঠা হচ্ছে, ততক্ষণ বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে না।' জুলাই জাদুঘর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এই জাদুঘর পতিত সরকারের ডামি রূপ তুলে ধরে বাস্তবতার চেয়ে বহুগুণ বেশি জুলুমের তথ্য মুছে দিয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি ও উপাদান এই স্থান থেকে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে ফেলানীকে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখার সেই নৃশংস চিত্র এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনের ওপর চালানো অমানবিক নির্যাতন—এই সব ইতিহাস মুছে ফেলা হয়েছে।' তিনি সতর্ক করে বলেন, ক্ষমতাধররা ইতিহাস বিকৃত করলেও, তারা আসলে প্রত্যেককেই ইতিহাস বিকৃত করেছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে তিনি জোর দেন যে এই বিপ্লবকে 'ফাইনাল যুদ্ধ' বলে মনে করা উচিত নয়; এটি ছিল কেবল একটি প্রস্তুতিমূলক অনুশীলন (রিহার্সাল)। সেই মুক্তিকামী মানুষগুলো এখনও সজাগ দৃষ্টিতে দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন যে, মদিনা সনদে দুর্নীতি, সন্ত্রাস বা চাঁদাবাজির কোনো স্থান নেই। কিন্তু যারা এই সনদের নামে ক্ষমতা গ্রহণ করেছে, তাদের মধ্যে এসব অন্যায় বিদ্যমান। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াত আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরে দেশ বারবার দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বদলে ক্ষমতাসীনেরা দলীয়করণের মাধ্যমে জনগণকে শোষণ করেছে এবং তাদের স্বার্থে জনগণের ওপর স্টিমরোলার চালিয়েছে। তারা বিরোধী দলে থাকাকালীন ন্যায়-অন্যায়ের কথা বলে, কিন্তু ক্ষমতায় এসে জালিমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।।
কৃষ্ণসাগরের বাণিজ্য পথে বাধা: শস্য রপ্তানি সংকটে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে রাশিয়ার পদক্ষেপ