Published : 23 Aug 2026, 01:16 AM
মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারায় রাজপথের সাহসী কণ্ঠস্বর, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হানের সত্তরতম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই উৎসবে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়, আবৃত্তি, কবির নির্বাচিত কবিতার আলোচনা এবং স্মারক গ্রন্থের প্রকাশনা নিয়ে আলোচনা, আর কাব্য-নৃত্যনাট্যের পরিবেশনা এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ সাংসদ নূরুল ইসলাম মণি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। জন্মদিন উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান সভাপতিত্ব করেন। আলোচনায় অংশ নেন সাংসদ শিমুল বিশ্বাস, প্রবীণ কবি মতিন বৈরাগী, বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক জামসেদ আনোয়ার এবং প্রকাশক ওসমান গনিসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। অনুষ্ঠানটি সমবেত সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর কবি মোহন রায়হানের জীবন ও সংগ্রামের এক আলোকচিত্র তুলে ধরা হয় প্রামাণ্যচিত্র ‘অগ্নিপথের কবি’ প্রদর্শনীর মাধ্যমে।
বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে কবির অনুরাগী ও সুহৃদেরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। সভাপতির বক্তব্যে সলিমুল্লাহ খান বলেন, মোহন রায়হানের জীবন বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। তাঁর সৃজনশীলতা ও সংগ্রাম তরুণ প্রজন্মকে প্রতিবাদী হতে প্রেরণা যোগায়। এই লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়েছে এই উদযাপন। কবির প্রতিক্রিয়া ছিল, তিনি অভিভূত। ব্যক্তিগত স্বার্থ বা পদ-পদবির জন্য তিনি কখনও প্রত্যাশী ছিলেন না; সারা জীবন জনগণের পাশে থেকে সেই আদর্শকেই লালন করতে চান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্য প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত তাঁর নির্বাচিত একশো কবিতার মোড়ক উন্মোচন এবং জন্মদিন উদ্যাপন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অন্যদিকে, বিশিষ্ট নাট্যকার সেলিম আল দীনের ৭৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ধ্রুপদি আর্ট সেন্টার গতকাল সন্ধ্যায় মহিলা সমিতি মিলনায়তনে তাঁর সাহিত্যকর্ম থেকে পাঠের আয়োজন করা হয়, যার শিরোনাম ছিল ‘ভাঙা প্রেম অশেষ বিশেষ’। এই আলোচনা পর্বে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইউসুফ হাসান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক কাজী সুস্মিন আফসানা ও নাট্যকর্মী জাহেদুল আলম জীবন ও নাট্যকর্ম নিয়ে আলোকপাত করেন। সেলিম আল দীনের এই রচনাটি জীবন, প্রেম, অস্তিত্ব এবং দার্শনিক ভাবনাকে নদীর মতো করে এক অনন্য ভাষ্যে প্রবাহিত করেছে। এই পাঠ ও সংগীতে হুমায়ুন আজম, লুসি তৃপ্তি গমেজ, শাহজাদা সম্রাট চৌধুরী, শ্যামাঙ্গী শ্যামা, ওয়াহিদ আনসার এবং ফারহান ইশরাকও অংশ নেন।।
কাতারে আটক পাইলটদের দ্রুত চিকিৎসার দাবিতে ইরানের জোরালো আবেদন