Published : 16 Aug 2026, 12:16 AM
বিশ্বের প্রাচীনতম রাষ্ট্রপ্রধান ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়ার সাম্প্রতিক অনুপস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর জল্পনা। গত জুন মাসে তিনি এক 'সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফরে' ইউরোপের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়লেও, দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি দেশে ফেরেননি। এই দীর্ঘ বিরতি দেশের রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পল বিয়া কেবল বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক রাষ্ট্রপ্রধান নন, তিনি ক্যামেরুনের ইতিহাসের এক জীবন্ত প্রতীক। ১৯৮৪ সালে যখন তিনি প্রথম ক্ষমতায় আসেন, তখন এনফর্মি বিমে ছিলেন মাত্র তেইশ বছরের তরুণ ছাত্র। আজ বিয়ার বয়স ৬৫ পেরিয়েছে এবং তিনি শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নিয়েছেন। তবুও, দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন। বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি অষ্টম মেয়াদে জয়ী হন, যা তাঁকে শতায়ু হওয়া পর্যন্ত ক্ষমতার আসনে বসিয়ে রেখেছে, যদিও বিরোধীরা সেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুন তিনি ইউরোপ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সরকারিভাবে এটিকে 'সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফর' হিসেবে ঘোষণা করা হলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটিই তাঁর দীর্ঘতম নিরবচ্ছিন্ন অনুপস্থিতি। সম্প্রতি ক্যামেরুন সরকারের মুখপাত্র রেনে ইমানুয়েল সাদি ফরাসি রেডিও আরএফআই-কে জানিয়েছেন যে পল বিয়া বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থান করছেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন যে তিনি অসুস্থ নন এবং সুস্থ আছেন, তবে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি। ক্যামেরুনের রাজনীতিতে পল বিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত রহস্যময়। জনসমক্ষে তাঁর উপস্থিতি খুবই কম এবং দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে বা লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার অভ্যাস তাঁর পরিচিত। তবে এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি তাঁর স্বাস্থ্য এবং দেশের শাসন ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। যদিও সরকার সবসময়ই তাঁর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত গুজবকে অস্বীকার করে আসছে।
এমনকি ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা নিষিদ্ধ করে সরকার এটিকে 'জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়' হিসেবে ঘোষণা করেছিল। আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়—যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে তরুণ জনসংখ্যা বাস করে, সেখানে অনেক দেশই প্রবীণ নেতাদের শাসনাধীনে রয়েছে, যাদের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল বহু দশক আগে। ক্যামেরুনের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পল বিয়া কেবল একজন নেতা নন, তিনি কয়েক দশকের অবিচ্ছিন্ন শাসনের প্রতীক। এনফর্মি বিমের সন্তানদের বয়স ৩২ ও ১৮—তাদের কাছে রাষ্ট্রপ্রধান মানেই পল বিয়া। একই প্রজন্মের প্রতিনিধি ইয়ানডে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬ বছর বয়সী ডক্টরাল ছাত্র আবিদ রিয়াসাই আচাও তাদের চোখে তাঁকে এক অপরিবর্তনীয় শাসনব্যবস্থার মূর্ত প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এই দীর্ঘ বিরতি ক্যামেরুনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ এবং শাসনের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।।
মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার তিন বিমান চালক জীবিত, কাতার বন্দী: ইরানের দাবি