Published : 15 Aug 2026, 12:17 PM
বেলজিয়ামের পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলে একটি পুরোনো বাড়ির সংস্কার কাজের সময় এক অবিশ্বাস্য আবিষ্কার সামনে এসেছে। বাড়িটির মাটির নিচের ঘরের দেওয়াল ঘেঁষে বিপুল পরিমাণ সোনা খুঁজে পাওয়া যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৯ কোটি ইউরো! স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই গুপ্তধনের সন্ধান মেলে যখন নির্মাণ শ্রমিকরা ওই সম্পত্তির ভিত মজবুত করার জন্য খননকার্য চালাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় তারা দেয়ালের ভেতর থেকে সোনার বার এবং অসংখ্য স্বর্ণমুদ্রা উদ্ধার করেন। এই অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার ঘিরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে—এই বিপুল সম্পদের আসল মালিক কে? আইন অনুযায়ী, নির্মাণ শ্রমিক এবং বাড়ির মালিকানায় থাকা স্থানীয় দাতব্য সংস্থা উভয়েরই এই সোনা দাবি করার অধিকার রয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকার মানুষকে নতুন করে গুপ্তধন খোঁজার প্রবণতা থেকে বিরত রাখার জন্য সতর্ক করেছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে পুরো বাড়িটি তল্লাশি করা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত সমস্ত সোনা সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন কাজ করা ১৮ বছর বয়সী এক ছাত্রসহ কয়েকজন শ্রমিকই এই বিপুল ধন খুঁজে পান। কোবে নামের ওই শিক্ষার্থী বেলজিয়ামের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ভিআরটিকে জানান, 'প্রথমদিকে আমরা চরম হতবাক হয়ে যাই। প্রথমে ভেবেছিলাম এগুলো সাধারণ মুদ্রা হতে পারে।
কিন্তু যখন একটি সোনার বার দেখতে পেলাম, তখন বুঝতে পারলাম এটি অনেক বড় কিছু।' সোনা উদ্ধারের পরপরই শ্রমিকরা বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন। সাইট ম্যানেজার মারিও ভিআরটিকে বলেন, 'এত সোনা ও স্বর্ণমুদ্রা এখানে পাওয়া গেলে তা নিজেদের কাছে লুকিয়ে রাখা অসম্ভব ছিল। তাছাড়া, এটি চুরি করার শামিল।' কোবেও তার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, '৯ কোটি ইউরোর সোনা লুকিয়ে রাখা একেবারেই অসম্ভব।' যে বাড়িটিতে এই সম্পদ আবিষ্কৃত হয়েছে, তার বর্তমান মালিক হলো 'সিএডব্লিউ ওস্ট-ভ্লান্দেরেন' নামে একটি সামাজিক কল্যাণমূলক সংস্থা। ডেন্ডারমন্ডে এই সংস্থার পরিচালক গিয়ার্ট হিলার্ট বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, 'আমি আশা করি এই সম্পদ শেষ পর্যন্ত আমাদের দাতব্য কাজের জন্য ব্যবহার করা যাবে, যা আমাদের দৈনন্দিন সামাজিক চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে।' স্থানীয় পুলিশ তাদের ফেসবুক পেজের প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করে একটি স্বর্ণমুদ্রার ছবিতে বদলে দিয়েছে এবং নির্মাণাধীন এলাকায় ভিড় এড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে। পুলিশ আশা করছে যে এই সম্পদ সঠিক হাতে পৌঁছাবে এবং মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী, প্রকৃত মালিকের কাছে এই সোনার দাবি করার জন্য পাঁচ বছর সময় রয়েছে। তবে স্থানীয় কৌঁসুলি জানিয়েছেন, সোনাগুলোর আসল মালিক কে, তা এখনও জানা যায়নি। যদি পাঁচ বছরের মধ্যে কোনো মালিকের সন্ধান না মেলে, তবে দেওয়ানি আইন অনুসারে এই লুকানো সম্পদ জমি বা বাড়ির মালিক এবং সন্ধানদাতার মধ্যে সমানভাবে ভাগ হয়ে যাবে। তবে এটি কেবল তখনই প্রযোজ্য হবে, যদি সোনার সঙ্গে কোনো অপরাধমূলক কার্যকলাপের সম্পর্ক না থাকে। মালিকের খোঁজ পাওয়ার জন্য এখন নির্মাণ শ্রমিক এবং দাতব্য সংস্থা উভয়কেই ১,৮২৩ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আর যদি কেউ দাবিদার হিসেবে সামনে না আসে, তবে এই গুপ্তধন তাদের ভাগ্য সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।।
যুক্তরাজ্যকে 'ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ব্রিটেন' আখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহুর কটু মন্তব্য