Published : 14 Aug 2026, 02:16 AM
চীনের পরীক্ষামূলক বুলেট ট্রেন এক অভূতপূর্ব মাইলফলক অর্জন করেছে। মাত্র ৫.৩ সেকেন্ডের মধ্যে এই ট্রেনটি স্থির অবস্থা থেকে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছে গেছে। এই সাফল্য ভবিষ্যতের অতি উচ্চগতির পরিবহন ব্যবস্থার পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন। এই পরীক্ষাটি চীনের হুবেই প্রদেশের ডংহু ল্যাবরেটরিতে পরিচালিত হয়, যেখানে ১.১ টন ওজনের একটি ম্যাগলেভ ট্রেন এক কিলোমিটার দীর্ঘ পরীক্ষামূলক ট্র্যাকে চলাচল করে। এই ট্রেনে চৌম্বক শক্তির সাহায্যে ট্র্যাকের সামান্য উপরে ভেসে থাকার ফলে ঘর্ষণ প্রায় শূন্য হয়ে যায়। ট্র্যাকের কয়েল থেকে উৎপন্ন চৌম্বক তরঙ্গই ট্রেনটিকে সামনের দিকে চালিত করে।
ট্রেনের ব্রেকিং ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত হওয়ায়, ৮০০ কিলোমিটার গতিতে চলার পরেও এটি মাত্র ২০০ মিটারের মধ্যে মসৃণভাবে থেমে যেতে সক্ষম হয়। গত ছয় মাসে এই ট্রেনটি তৃতীয়বারের মতো নিজের রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতা স্পর্শ করেছে। এর আগে, গত বছরের জুনে প্রথম পরীক্ষায় ট্রেনটি ৭ সেকেন্ডে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছেছিল এবং পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে তা ধারাবাহিকভাবে আরও বেশি গতি অর্জন করে—যেমন ৭০০ কিলোমিটার, ৭৯৮ কিলোমিটার এবং সর্বশেষ ৮০০ কিলোমিটার গতি। সিসিটিভি-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই প্রতিটি পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, তড়িৎচৌম্বকীয় চালনা, উচ্চ গতিতে ট্রেনকে ভাসিয়ে রাখার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং জরুরি ব্রেকিংয়ের মতো একাধিক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সর্বোচ্চ স্তরে পরীক্ষা করেছেন। বর্তমানে চীন ও জাপানে চলাচলকারী ম্যাগলেভ ট্রেনের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৩২০ কিলোমিটার। চীনা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির গবেষকরাও অতি-উচ্চগতির ম্যাগলেভ ট্রেন তৈরির কাজ করছেন, যেখানে মাত্র ২ সেকেন্ডে ট্রেনটি ঘণ্টায় ৬৯৭ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছেছিল।
যদিও এই প্রযুক্তি বর্তমানে সাধারণ মানুষের পরিবহনের জন্য তৈরি হয়নি, বিজ্ঞানীরা আশা করছেন এর পেছনের বিজ্ঞান ভবিষ্যতে রকেট ও যুদ্ধবিমান উৎক্ষেপণের জন্য বিশেষ লঞ্চ সিস্টেম তৈরিতে সহায়ক হবে। চীনা বিজ্ঞানীরা এখন আরও গবেষণা করছেন, যেখানে কম বা প্রায় শূন্য বায়ুচাপের টিউবের ভেতর দিয়ে ট্রেন চালানো সম্ভব হবে। তবে এই প্রযুক্তি বাস্তবে ব্যবহারের আগে অবকাঠামো নির্মাণ, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং ট্র্যাক নির্মাণের জটিলতা মোকাবিলার মতো বিশাল চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করতে হবে।।
কলম্বিয়ার ধ্বংসস্তূপের গভীরে ফিসফিসানি শুনে উদ্ধার হলো শিশু ও এক ব্যক্তির জীবন