Published : 30 May 2026, 06:40 PM
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার প্রত্যাশায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই খবরে বিশ্ববাজারে ডলারের দাম কমে গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধারা সপ্তাহজুড়ে অব্যাহত থাকতে পারে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালীর জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মতির অপেক্ষায় এই চুক্তিটি বাস্তবায়িত হবে। এর ফলে যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হবে এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হবে। তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলমান থাকবে। এই খবরে তেলের দাম কিছুটা কমেছে এবং বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ডলারের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন। যদিও ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বজায় রেখেছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের প্রত্যাশা বাড়ছে।
এশিয়ার বাজারে আজ ইউরোর দাম ১.১৬৫৩ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা সামান্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। অন্যদিকে পাউন্ডের দর ১.৩৪৪৫ ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ডলারের দাম ০.৭১৬৪ ডলারে অপরিবর্তিত আছে। নিউজিল্যান্ডের ডলার ০.২ শতাংশ বেড়ে ০.৫৯৪৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের অবস্থান নির্ণয় করা হয় ডলার ইনডেক্সের মাধ্যমে। আজ এই সূচকটি ৯৮.৯৯৭ পয়েন্টে স্থির রয়েছে। আগের দিন সূচকটি ০.২ শতাংশ কমেছিল। এর ফলে পরপর দুই সপ্তাহের ঊর্ধ্বগতি থামিয়ে এই সপ্তাহে সূচকটি প্রায় ০.৩ শতাংশ কমতে পারে। ইউবিএস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের গ্লোবাল মার্কেট স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান মাসিমিলিয়ানো কাস্তেল্লি মনে করেন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকট প্রশমিত হলে ডলারের দুর্বলতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
কাস্তেল্লি আরও বলেন, সংঘাতের সময় নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়লেও ডলারের দাম ধরে রাখা কঠিন হবে। অনেক বিনিয়োগকারী মার্কিন ডলার থেকে সরে এসে তাদের বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনতে আগ্রহী, যার ফলে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ কমতে পারে। ডলারের দুর্বলতার কারণে জাপানি ইয়েন শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমানে ১ ডলারের বিপরীতে ১৫৯.২৭ ইয়েন পাওয়া যাচ্ছে। ইয়েনের ১৬০-এর মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করলে জাপানি কর্তৃপক্ষ সাধারণত বাজারে হস্তক্ষেপ করে থাকে। এদিকে, এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার প্রধান কারণ জ্বালানির দাম বৃদ্ধি। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে বলে অর্থনীতিবিদদের ধারণা জোরালো হচ্ছে।।
ইরান-মার্কিন উত্তেজনা প্রশমনে বিশ্ববাজারে তেলের দামে পতন, ব্যারেল প্রতি ১ শতাংশের বেশি হ্রাস