Published : 27 May 2026, 12:27 PM
চীনের প্রভাবশালী ধনী ও গেমিং জগতের কর্ণধার লিন চিকে বিষ খাইয়ে হত্যার দায়ে তার এক প্রাক্তন সহকর্মীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে নেটফ্লিক্সের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পাদনে জু ইয়াও লিনকে সহায়তা করেছিলেন। তবে, পরবর্তীতে লিন তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিলে ক্ষুব্ধ জু তার প্রতি বিষাক্ত প্রতিশোধ নেয়। লিনের কোম্পানি ‘ইউজু গেমস’ চীনা কল্পবিজ্ঞান ত্রয়ী ‘থ্রি বডি প্রবলেম’ অবলম্বনে নির্মিত নেটফ্লিক্সের সাড়া জাগানো সিরিজের চলচ্চিত্র নির্মাণ স্বত্ব কিনেছিল। ২০২৪ সালে জু-কে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মঙ্গলবার ইউজু গেমস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘অবশেষে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা মিস্টার লিনের প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত এবং তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। কোম্পানির সকল সদস্য বিচার প্রক্রিয়ার এই নিরপেক্ষতায় কৃতজ্ঞ।
’ দ্বন্দ্বের সূত্রপাত: চীনা লেখক লিউ সিক্সিনের ‘রিমেমব্র্যান্স অফ আর্থস পাস্ট’ উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে ‘থ্রি বডি প্রবলেম’ সিরিজ। প্রথমে চীনা ভাষায় প্রকাশিত এই বইটি পরবর্তীতে প্রায় ৩০টি ভাষায় অনূদিত হয় এবং এর ওপর ভিত্তি করে একাধিক নাটক ও সিনেমা নির্মিত হয়। ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিরিজটি খুব দ্রুতই স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের অন্যতম জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। লিন চিকে মরণোত্তর এই সিরিজের একজন নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আদালত ওই বছর লিনকে হত্যার দায়ে জু-কে দোষী সাব্যস্ত করে এবং তার এই কাজকে ‘অত্যন্ত ঘৃণ্য’ বলে অভিহিত করে। লিনের মৃত্যু চীনসহ বিশ্বজুড়ে গেমিং ইন্ডাস্ট্রিতে গভীর শোকের ছায়া ফেলে। সাংহাইভিত্তিক গেম ডেভেলপার ইউজু গেমসের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন লিন, যা ‘গেম অফ থ্রোনস: উইন্টার ইজ কামিং’ গেমের জন্য সুপরিচিত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে লিন এই কল্পবিজ্ঞান ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রকল্পগুলো তত্ত্বাবধানের জন্য জু-কে ‘থ্রি-বডি ইউনিভার্স’ নামের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেন।
২০২০ সালে লিন ব্যবসার মূল দায়িত্ব অন্য কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দিলে জু-এর সঙ্গে তার বিরোধ শুরু হয়। এরপর জু প্রোবায়োটিক বড়ির মধ্যে বিষ মিশিয়ে লিনকে খাইয়ে দেয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অসুস্থ বোধ করায় লিন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং নয় দিন পর, মাত্র ৩৯ বছর বয়সে তিনি মারা যান। হুরুন চায়না রিচ লিস্ট অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় তার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬.৮ বিলিয়ন ইউয়ান। লিন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক দিন পরই পুলিশ জু-কে গ্রেপ্তার করে। জু-এর বিষ প্রয়োগের কারণে লিন ছাড়াও আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়েছিলেন। মঙ্গলবার চীনের ‘ইকোনমিক অবজারভার’ পত্রিকা জানায়, জু-এর বিষাক্ত হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন: ‘দেরিতে হলেও, অবশেষে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো।’।
ইরানের ঐতিহাসিক স্থাপত্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বোমারু আঘাত, ১৪০টির বেশি স্থাপনা বিধ্বস্ত!