Published : 26 May 2026, 12:23 AM
ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) তাদের ড্রোন কার্যক্রমের জন্য অত্যাধুনিক চীনা স্যাটেলাইট সরঞ্জাম আমদানি করেছে। এই কাজে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক একটি কোম্পানিকে ব্যবহার করা হয়েছে। সম্প্রতি ফিনান্সিয়াল টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। ফাঁস হওয়া বাণিজ্যিক চুক্তি ও জাহাজ পরিবহন সংক্রান্ত নথি থেকে জানা যায়, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ স্টারউইন নির্মিত ৪.৫ মিটার মোটরচালিত স্যাটেলাইট অ্যান্টেনা সংগ্রহ করে। প্রযুক্তিটি সাংহাই থেকে চীনা কনটেইনার জাহাজ ঝং গু ইন চুয়ানের মাধ্যমে ইরানের বন্দর আব্বাসে পাঠানো হয়। ফিনান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট দুবাইয়ে পৌঁছানোর পর একটি কনটেইনার সেখানে নামিয়ে যায়। এরপর ২৩ নভেম্বর সেটি ইরানি জাহাজ রামা থ্রি সংগ্রহ করে।
জাহাজটির জিপিএস ডেটা অনুযায়ী, রামা থ্রি পারস্য উপসাগর থেকে যাত্রা করে ওমান উপকূলের কাছে কিছুক্ষণের জন্য থামে। তবে একই দিনের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে ফিনান্সিয়াল টাইমস জানতে পারে, জাহাজটি আসলে ঘোষিত অবস্থানে ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটি হয় ‘স্পুফিং’ (অর্থাৎ সিস্টেমকে বিভ্রান্ত করার জন্য মিথ্যা তথ্য প্রদান) অথবা ভুয়া জিপিএস সংকেত ব্যবহার করেছে। ফিনান্সিয়াল টাইমস জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরের তারিখযুক্ত চালানটিতে ‘অ্যান্টেনা ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ছয়টি বাক্সে আসা এই চালানের মোট ওজন ছিল প্রায় ১.৮ টন। ফিনান্সিয়াল টাইমসের হাতে আসা চুক্তিপত্র অনুযায়ী, ইরানের সামান ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রুপের একটি প্রকল্পের জন্য কাজ করা ইরানি টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এরতেবাতাত ফারাগোস্তার কিশের (ইএফকে)-এর পক্ষ থেকে এই সরঞ্জাম সংগ্রহ করে টেলিসান। উল্লেখ্য, টেলিসান নিজেদের ‘মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাজুড়ে স্থায়ী ও মোবাইল স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থার সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সরবরাহকারী’ হিসেবে দাবি করে।
এই বিষয়ে জানতে টেলিসান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে যোগাযোগ করা হলেও তারা ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। এর আগে, দুই সপ্তাহ আগে নিউ ইয়র্ক টাইমস মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানায়, চীনা কোম্পানিগুলো গোপনে ইরানে অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা করছে এবং অস্ত্রের উৎস গোপন রাখতে অন্যান্য দেশের মাধ্যমে সেগুলো পরিবহনের চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এমন গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় অস্ত্র বিক্রি নিয়ে চীনা কোম্পানিগুলো ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে এখনো কোনো অস্ত্র পাঠানো হয়েছে কিনা বা চীনা কর্মকর্তারা কতগুলো বিক্রির অনুমোদন দিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, অস্ত্র চালানের প্রকৃত উৎস আড়াল করতে চীন বেশ কয়েকটি দেশের সাহায্য নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে একটি আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।।
ইরান-মার্কিন অচলাবস্থা ভাঙতে কাতারে শীর্ষ আলোচনা, স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সমাধানে তেহরান