Published : 26 May 2026, 10:24 PM
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য নিজেদের এই পদক্ষেপকে আত্মরক্ষামূলক বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও আভাস দিয়েছেন, সংঘাত নিরসনে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হয়তো আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। ইরানি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে হরমোজগান প্রদেশে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলা প্রায় সাত সপ্তাহ ধরে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির একটি গুরুতর লঙ্ঘন। উভয় পক্ষই এমন একটি চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছিল, যা যুদ্ধ বন্ধে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে সহায়ক হতে পারত। একইসঙ্গে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সহ অন্যান্য জটিল বিষয়গুলো নিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনার প্রস্তাবও ছিল। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল নৌযানে মাইন স্থাপন এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নেওয়া কেন্দ্রগুলো।
ভারতের জয়পুরে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কো রুবিও জোর দিয়ে বলেন, "যেকোনো মূল্যে" হরমুজ প্রণালীকে খোলা রাখতে হবে। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটিয়েছে, যার ফলে জ্বালানি, সার এবং খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করত, বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ ধরেই পরিবাহিত হয়। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৮.৯১ ডলারে উন্নীত হয়। 'সময় ফুরিয়ে আসছে' এপ্রিলের শুরু থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে নিজেদের সেনাদের রক্ষার জন্য তারা নতুন করে হামলা চালিয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার রয়েছে বলে জানিয়েছে এবং দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং আরও দুটি ড্রোন ও একটি যুদ্ধবিমানের দিকে গুলি ছুড়েছে, যেগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। এদিকে, হজ উপলক্ষে টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেন, "সময় আর পেছনের দিকে ঘোরানো যাবে না।
এই অঞ্চলের দেশ ও ভূখণ্ড আর মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ঢাল হয়ে থাকবে না।" তিনি আরও বলেন, "'আমেরিকার মৃত্যু' ও 'ইসরায়েলের মৃত্যু'—এই স্লোগান এখন ইসলামী বিশ্ব এবং নিপীড়িত মানুষের, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মুখে মুখে ফেরে।" মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে এই ধরনের স্লোগান উল্লেখ করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে কথা বলেছিলেন। সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা "ভালোভাবেই এগোচ্ছে", তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন হামলার হুমকিও দেন। তাঁর ভাষ্য, "হয় এটি সবার জন্য একটি দারুণ চুক্তি হবে, নতুবা কোনো চুক্তিই হবে না।"।
আরাফাতের ময়দানে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা: ব্যাকুল মুসল্লিদের ইবাদত-বন্দেগি