Published : 28 May 2026, 12:07 PM
হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইরান এর একটি সামরিক ঘাঁটি ও চারটি ‘একমুখী আক্রমণকারী’ ড্রোন ধ্বংস করার জন্য মার্কিন বাহিনী নতুন করে হামলা চালিয়েছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন মার্কিন কর্মকর্তা আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানান। এর আগে তিন দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বার ইরানে হামলা চালাল মার্কিন সেনারা। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা একটি ‘আমেরিকান ঘাঁটিতে’ পাল্টা আঘাত হেনেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের বন্দর আব্বাসে অবস্থিত একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন। সেখান থেকে পঞ্চম ড্রোনটি উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। বিগত তিন মাসে চলা এই যুদ্ধে প্রাণহানি ঘটেছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। যুদ্ধবিরতির চলমান আলোচনা চলাকালীনই যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন হামলার খবর আসে।
ঐ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘(যুক্তরাষ্ট্রের) এই পদক্ষেপগুলো ছিল অত্যন্ত সুচিন্তিত এবং সম্পূর্ণরূপে আত্মরক্ষামূলক। এটি যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার একটি প্রয়াস।’ এর আগে, বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনকে মিথ্যা প্রমাণ করেন। ঐ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইরান ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালীর জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে। ট্রাম্প দৃঢ়ভাবে বলেন, এই নৌপথ সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এর পূর্বে, গত সোমবারও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল। তবে ইরান এটিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, সোমবারের হামলায় তারা সেই নৌকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল, যেগুলো মাইন স্থাপন করার চেষ্টা করছিল। এছাড়াও, তারা সেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানে, যেগুলো মার্কিন বাহিনীর জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছিল।
আইআরজিসি’র পাল্টা হামলা। মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাবে আইআরজিসি একটি ‘আমেরিকান ঘাঁটিতে’ পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে ঐ ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি দাবি করে, ঐ ঘাঁটি থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের হামলাটি চালানো হয়েছিল। তবে তারা বিমানঘাঁটিটির সঠিক অবস্থান জানায়নি। বন্দর আব্বাসের উপকণ্ঠে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলার পরপরই আইআরজিসি এই পাল্টা হামলার ঘোষণা দেয়। বিবৃতিতে আইআরজিসি সতর্ক করে জানায়, ভবিষ্যতে এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপের আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।।
মধ্যপ্রাচ্য ও রুশ গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা: কানাডার এলএনজির দিকে ঝুঁকছে ইউরোপ