Published : 19 Jul 2026, 02:15 AM
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, যদি গণভোটের ফলাফল ব্যর্থ হয়, তবে এই সরকারও তার অস্তিত্ব হারাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'আমরা আর এভাবে রাজপথে থাকতে চাই না। আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে অংশ নিতে চাই। কিন্তু আপনারা যেভাবে ধাক্কা দিয়ে আমাদের রাজপথের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, সেই আগুনে সবকিছু পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।' শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বক্তব্য পেশ করেন। ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, 'সরকারি দল দাবি করেছিল, যদি অধিকাংশ মানুষ গণভোটে 'হ্যাঁ' বলে, তবে আমরা তাদের সব দাবি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। তারা বলেছিল, 'হ্যাঁ' বলুন। কিন্তু যখন 'হ্যাঁ' বিজয়ী হলো এবং তারা ক্ষমতা দখল করল, তখন তারা সেই 'হ্যাঁ'-র কথা ভুলে গেল।' তিনি অভিযোগ করেন, 'তারা এখন বলছে—আমরা কখনো সংস্কারের কথা বলিনি। আপনারা সত্য বলছেন না, আপনারা মিথ্যা বলছেন। আপনাদের ৩১ দফা সংস্কারের দাবির প্রথম ধাপই হলো সংস্কার।
এখন সংস্কার কী, তা আমরা বুঝি না। আসুন আমরা সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করি।' জামায়াত আমির আরও বলেন, 'সংসদের ভেতরে মাঝে মাঝে কোনো শিক্ষক আমাদের সব দেন। সংবিধান, ধারা—এসব। আমি জানতে চাই, সংসদে আপনারা কীভাবে একটি সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করতে পারবেন? আমরা যখন প্রতিবাদ করেছিলাম, তখন তারা সংসদের ভেতরেই কমিটি গঠন করে আমাদের প্রত্যাখ্যান করেছিল। এখন তারা নাম পরিবর্তন করে নতুন নামে 'আকিকা' করতে চাইছে। তারা জনগণের সাথে আর কত ছলচাতুরি ও ধোঁকাবাজি করবে? পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন।' ফ্যাসিবাদ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, 'জনগণ ফ্যাসিবাদকে বাংলাদেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। আপনারা হাজার চেষ্টা করলেও ওই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না; আপনারা কেবল 'ডামি ফ্যাসিবাদ' হতে পারেন। যে সকল অর্ডিন্যান্স ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছিল, তার সবই বিএনপি রেখে দিয়েছে। এটি জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা।
তারা বলে সুন্দর করে আরও ভালো করে এগুলো আনবে। ছয় মাস পরেও তারা কিছু আনতে পারেনি। আমরা বুঝতে পারছি, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা অন্য কোনো কৌশল অবলম্বন করতে পারে। তাদের মনমতো একতরফা কমিটিতে আলোচনা করে তারা সবকিছু ঠিক করে নেবে।' জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'জুলাইকেও চাপা দেওয়ার জন্য কত কৌশল। একাত্তর সাল অবশ্যই আমাদের গর্বের, সোনালী অংশ। চব্বিশ টানতে গিয়ে একাত্তর টানতে হবে কেন? একাত্তর তার মর্যাদায় থাকবে, আর চব্বিশ তার মর্যাদায় থাকবে। একাত্তরের বীর শহীদ ও গাজীদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান দিতে হবে। চব্বিশের কারণে জাতি কোনো অবহেলা করবে না।'।
ট্রল ও অপবাদে দায়িত্ব থেকে সরে আসা যাবে না: শিক্ষামন্ত্রীর কঠোর বার্তা