Published : 18 Jul 2026, 10:16 PM
সরকার আগামী মাসের মধ্যেই 'প্রবাসী কার্ড'-এর পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এক নতুন পথ প্রশস্ত হবে। প্রথম ধাপে প্রবাসী ডেবিট কার্ড চালু করার বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রবাসী কার্ড সংক্রান্ত এক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, ক্ষমতায়ন, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা এবং ডুয়েল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক লেনদেন ও ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান করা। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়ন শুরু করেছে, আর প্রবাসী কার্ডও সেই অঙ্গীকারেরই অংশ।
এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম তারই একটি অংশ। উপ-প্রেস সচিব আরও জানান, প্রবাসী কার্ডের সুবিধাগুলো বহুমুখী। এর মধ্যে রয়েছে দেশে-বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার, বিশেষ অভিবাসন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিনামূল্যে সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা সেবা, বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে ছাড়, দেশ-বিদেশে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং ও স্বাক্ষর কার্ডে বিমানবন্দর পিক অ্যান্ড ড্রপ পরিষেবা, সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ ও বেসরকারি ক্ষেত্রে ছাড়, কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে লাশ পরিবহন, প্রবাস ফেরতদের পুনর্বাসন ও বীমা সুবিধা, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি, লাইসেন্স এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার। এছাড়াও, রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং ও ঋণের সুবিধা, কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ প্রেরণসহ সহজ লেনদেন, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট ও কন্সুলার সেবায় অগ্রাধিকার এবং ব্যাংক ও সরকারের অন্যান্য সুবিধা প্রদান করা হবে। শাহাদাৎ স্বাধীন আরও নিশ্চিত করেছেন যে, প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে হবে। প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। এই লক্ষ্যে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে ২ লক্ষ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের সকল কাজ সম্পন্ন করা হবে। উপ-প্রেস সচিব আরও উল্লেখ করেন যে, বৈঠকে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে সময়োপযোগী ও আধুনিক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সাথে, বিশ্বে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের যাতে এই কার্ডের আওতায় আসে, সেই বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নজর রাখতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, মাহদী আমিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ সচিব মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।।
গণভোট ব্যর্থ হলে সরকারও ব্যর্থ হবে: শফিকুর রহমানের তীব্র হুঁশিয়ারি